শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রক্তসমুদ্র পেরিয়ে গাজাবাসীদের জন্য সুখবর

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ১০:২৯ এএম
expand
রক্তসমুদ্র পেরিয়ে গাজাবাসীদের জন্য সুখবর

মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষক সাবিনা আহমেদ জানিয়েছেন, অবশেষে গাজায় বসবাসকারীদের জন্য ইতিবাচক এক সংবাদ এসেছে।

মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তিচুক্তির প্রথম ধাপের ওপর হামাস ও ইসরায়েল দু’পক্ষই সম্মত হয়েছে। এই ঘোষণা নিজে ট্রাম্প করেন এবং পরে দুই পক্ষও তা নিশ্চিত করেছে। প্রথম ধাপের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর সম্ভবত খুব শিগগির — সম্ভব হলে শুক্রবার মিশরে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

সাবিনা রবিবার (৯ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে এই তথ্য জানান।

তার পোস্টে সাবিনা আহমেদ লিখেছেন, ট্রাম্পের ২০ পয়েন্টের শান্তি পরিকল্পনাটি মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে এবং এদের মধ্যে প্রথম ধাপের ওপর হামাস ও ইসরায়েল দুই পক্ষই সম্মত।

এ সম্মতির খবর আজ ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন এবং দুই পক্ষও সেটি নিশ্চিত করেছে। প্রথম ধাপের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর আরও কিছু সময়ের মধ্যে — সম্ভবত আগামীকাল বা খুব শীঘ্রই — মিশরে হতে পারে।

তিনি জানান, প্রথম ধাপের মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা (সিজফায়ার), সঙ্গে জিম্মি মুক্তিকরণ, ত্রাণবণ্টন এবং পূর্বনির্ধারিত এক সংক্রামক লাইনের (অ্যাগ্রিড লাইন) অভিমুখে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আংশিকভাবে প্রত্যাহার করা।

সাবিনা তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন যে, এই ধাপ বা পর্যায়টি মোট ছয় সপ্তাহ ধরে চলবে এবং এ সময়ে যে কাজগুলো করা হবে সেগুলো হল:

১) হামাস বাকি থাকা সকল জিম্মিকে (প্রায় ৫০ জন — জীবিত ও মৃত উভয়কে মিলিয়ে) মুক্তি দেবে। এ প্রক্রিয়া শুরু হতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

২) জিম্মিদের বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে — হামাস ইতোমধ্যেই একটি তালিকা জমা দিয়েছে।

৩) ইসরায়েল গাজার এক সম্মত লাইনের দিকে তাদের সেনা আংশিকভাবে সরিয়ে নেবে (পূর্ণ প্রত্যাহার নয়, অংশিক প্রত্যাহার হিসেবে কনসিডার করা হবে)।

৪) উভয় পক্ষ হামলা বন্ধ রাখবে; যদি এ অঙ্গীকার মেনে চলা হয় তবে যুদ্ধ আবার শুরু হবে না।

৫) গাজায় মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ সরবরাহ বাড়ানো হবে এবং রাফা সহ কিছু ক্রসিং আরও বেশি সংখ্যায় খুলে দেয়া হবে যাতে পণ্য প্রবাহ বাড়ে।

তিনি আরও লিখেছেন, যদি এই প্রথম ধাপ সফল হয় তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে গাজার শাসন ব্যবস্থা, পুনর্গঠন এবং হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়গুলো নিয়ে কথাবার্তা শুরু করা হবে। চুক্তিটি মধ্যস্থতা করেছে কাতার, তুরস্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মিশর; এবং এই ধাপের যুদ্ধবিরতি গ্যারান্টি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার ও তুরস্ক।

শেষে সাবিনা সকলের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, শোনা যাচ্ছে ট্রাম্প নিজে মিশরে উপস্থিত থেকে ওই চুক্তি স্বাক্ষরে থাকবেন। তিনি দোয়া চাইতে বলেছেন—এইবার যেন সত্যিই যুদ্ধ থামেই যায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন