শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহিদুল আলমসহ আটকদের কোথায় নেওয়া হচ্ছে?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৫৭ এএম
expand
শহিদুল আলমসহ আটকদের কোথায় নেওয়া হচ্ছে?

গাজামুখী ত্রাণবাহী নৌবহর থেকে আটক মানবাধিকারকর্মীদের ইসরাইলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলমও। বুধবার (৮ অক্টোবর) রাতে ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসরাইলি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, গাজা উপকূলের কাছে পৌঁছানোর আগেই আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌবহরটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়।

ইসরাইলি নৌবাহিনী ওই অভিযানে নয়টি জাহাজ আটক করে এবং দেড়শোর বেশি যাত্রী ও কর্মীকে হেফাজতে নেয়। তাদের সবাই বর্তমানে সুস্থ আছেন বলে দাবি করেছে তেলআবিব প্রশাসন, এবং দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

আটক শহিদুল আলম ছিলেন “কনশানস” নামের একটি যাত্রীবাহী জাহাজে, যা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) কর্তৃক সংগঠিত নয়টি জাহাজের বহরের অংশ ছিল।

দুই সপ্তাহ আগে ইতালির একটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে এই বহরটি, যার মধ্যে একটি বড় জাহাজে প্রায় ১০০ জন এবং অন্যান্য আটটি ছোট নৌযানে আরও ৫০ জন কর্মী ছিলেন। আয়োজকদের দাবি, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অন্তত দুজন ইসরাইলি নাগরিকও ছিলেন।

বুধবার ভোরে, গাজা উপকূল থেকে প্রায় ১৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভূমধ্যসাগরে ইসরাইলি নৌবাহিনীর বিশেষ কমান্ডো ইউনিট ‘শায়েতেত ১৩’ অভিযান চালায়। তারা হেলিকপ্টার থেকে রশি বেয়ে নামার মাধ্যমে ‘কনশানস’সহ নয়টি জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

ফ্লোটিলা সংগঠকদের অভিযোগ, ইসরাইলি বাহিনী তাদের জাহাজে সামরিক হেলিকপ্টার থেকে আক্রমণ চালায় এবং আটটি নৌযান অবৈধভাবে জব্দ করে। এফএফসি এক বিবৃতিতে জানায়, বিশ্বজুড়ে থাকা মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও চিকিৎসকদের আটক করে অজানা স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তাদের দাবি, এই নৌবহর প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের ওষুধ, শ্বাস-প্রশ্বাসের যন্ত্রপাতি ও পুষ্টি সহায়তা বহন করছিল, যা গাজার হাসপাতালগুলোতে পাঠানোর জন্য নির্ধারিত ছিল।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে “সমুদ্রপথে জলদস্যুতা” ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল বলে মন্তব্য করেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নৌবহরে তুরস্কের কয়েকজন নাগরিক ও সংসদ সদস্যও ছিলেন। তুরস্ক আরও বলে, “গণহত্যায় লিপ্ত ইসরাইলি সরকার এখন মানবিক উদ্যোগগুলোকেও আক্রমণ করছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি।”

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, “গত দুই বছরে ইসরাইল এমন এক গণহত্যা চালিয়েছে, যা হিটলারের নৃশংসতাকেও ছাড়িয়ে গেছে।”

এর আগে গত সপ্তাহেই ইসরাইলি বাহিনী গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রারত ৪০টিরও বেশি নৌযান আটক করে, যেখানে প্রায় ৪৫০ জন আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন।

ইসরাইল এর আগেও গাজাগামী জাহাজে অভিযান চালিয়ে ত্রাণসামগ্রী জব্দ করেছে এবং মানবাধিকারকর্মীদের আটক করে ফেরত পাঠিয়েছে।

১৮ বছর ধরে প্রায় ২৪ লাখ মানুষের বসবাসের গাজা উপত্যকা কঠোর ইসরাইলি অবরোধের মধ্যে রয়েছে। চলতি বছরের মার্চে সীমান্ত সম্পূর্ণ বন্ধ করে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় অঞ্চলটি মারাত্মক মানবিক সংকটে পড়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। অব্যাহত হামলায় গাজা এখন প্রায় সম্পূর্ণভাবে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন