

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার অসহায় মানুষের জন্য ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা নিয়ে আবারও সমুদ্রপথে রওনা দিয়েছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর জোট ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি)।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বহরটি এখন গাজার উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার (১৫০ নটিক্যাল মাইল) দূরত্বে অবস্থান করছে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এফএফসি জানায়, তাদের নতুন এই অভিযাত্রা “গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা” মিশনের ধারাবাহিকতা, যা কয়েক মাস আগে ইসরাইলি বাহিনী আটক করেছিল। নতুন নৌবহরটি সেই একই সমুদ্র অঞ্চলের কাছাকাছি অগ্রসর হচ্ছে।
এফএফসি সূত্রে জানা যায়, এই ফ্লোটিলায় ৯টি নৌযান রয়েছে, যেগুলোতে বহন করা হচ্ছে খাদ্য, ওষুধ এবং গাজার অবরুদ্ধ জনগণের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। ক্রু ও স্বেচ্ছাসেবী মিলিয়ে এতে অংশ নিয়েছেন ১০০ জনেরও বেশি আন্তর্জাতিক কর্মী।
সংগঠনটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল কমিটি ফর ব্রেকিং দ্য সিজ অন গাজা এক্সে (টুইটার) জানিয়েছে, “আমরা গাজার উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রেখেছি, এই মানবিক সহায়তা পৌঁছানো পর্যন্ত থামব না।”
গত আগস্টে এফএফসি ঘোষণা দিয়েছিল, গাজার দিকে ৪৩টি নৌযান পাঠাবে “গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা” নামে। সেই মিশনে ৪৪টি দেশের ৫০০ জন অংশ নিয়েছিলেন—যাদের মধ্যে ছিলেন সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়াত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা, সংসদ সদস্য, আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মীসহ বহু বিশিষ্ট নাগরিক।
তবে ৩১ আগস্ট স্পেনের এক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করা সেই নৌবহরটি গাজার উপকূলে পৌঁছানোর আগেই ইসরাইলি নৌবাহিনী আটকে দেয়। সব নৌযান ও ক্রুদের ইসরাইলি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে বেশিরভাগ যাত্রীকে গ্রিসে ফেরত পাঠানো হলেও কয়েকজনকে এখনো আটক রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইসরাইলের ওই অভিযানের পর বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংগঠন তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল। সমালোচকদের মতে, গাজার দিকে মানবিক ত্রাণ পাঠানোকে বাধা দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির পরিপন্থী।
২০০৭ সাল থেকে গাজার সমুদ্রপথে ইসরাইলের কঠোর অবরোধ জারি আছে। গাজায় কোনো কার্যকর সমুদ্রবন্দর না থাকায় আন্তর্জাতিক কোনো জাহাজ সেখানে ঢুকতে পারে না। এ পরিস্থিতিতে ফ্রিডম ফ্লোটিলার নৌবহর যদি গাজার উপকূলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, তা হবে অবরোধের পর প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী নৌযানের নোঙর করা।
মন্তব্য করুন
