

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাজার অবরোধ ভাঙার প্রচেষ্টায় বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকর্মীরা এক নতুন প্রতীককে কেন্দ্র করে উদ্যোগ নিয়েছেন।
এর নামকরণ করা হয়েছে ‘থাউজ্যান্ডস মাদলিনস টু গাজা’ নামে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য, গাজার জন্য নৌযান ও সহায়তা পাঠানো।
গত বছর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’তে ৪৪টি নৌযান ছিল, যেগুলো ইসরায়েল আটকে দিয়েছে। বর্তমানে এগিয়ে আসছে ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’, যার মধ্যে রয়েছে ১১টি নৌযান। মানবাধিকারকর্মীরা ভবিষ্যতে হাজার নৌযানের উদ্যোগ নিতে চান। এই উদ্যোগের স্লোগান: হাজার জাহাজ, লক্ষ্য এক মুক্ত গাজা।
এই বহরের নাম মাদলিন কুলাব থেকে নেওয়া হয়েছে, যিনি গাজার প্রথম নারী জেলে। বর্তমানে ৩০ বছর বয়সী মাদলিন ভাঙা বাড়ির একটি অংশে বসবাস করছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকর্মীরা তার নামকে প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়ায় তিনি চমকে গেছেন।
মাদলিনের পরিবারও জেলের জীবনযাপন করতেন। তার বাবা ও স্বামী খাদের বাকর (৩২) দুজনেই জেলে ছিলেন। পরিবারটিকে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের সময় বহু ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে তাদের বাড়ির পাশে বিমান হামলায় মাদলিনের বাবাকে হত্যা করা হয়।
তাঁর সদ্যজন্মের সন্তানকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা খানইউনিস, রাফা, দেইর এল-বালাহ এবং নুসেইরাতে স্থানান্তরিত হন।
মাদলিন বলেন, আমি আপ্লুত। এক বিশাল দায়িত্ববোধ এবং গর্ব অনুভব করেছি। আমি এই অ্যাক্টিভিস্টদের কাছে কৃতজ্ঞ, যারা আরামের জীবন ছেড়ে গাজার পাশে এসেছেন এবং সব ঝুঁকি নেন।
১৫ বছর বয়স থেকে মাদলিন মাছ ধরতেন। বাবার নৌকা নিয়ে সমুদ্রে যেতেন এবং নিপুণ রাঁধুনিও ছিলেন। বিশেষ করে সার্ডিন মাছের খাবার তার পরিচিতি এনে দিয়েছে। কিন্তু এখন তিনি আর মাছ ধরতে বা রান্না করতে পারেন না, কারণ ইসরায়েলি বোমা তার নৌকা ও সরঞ্জাম ধ্বংস করে দিয়েছে।
মাদলিন বলেন, আমরা সব হারিয়েছি– এগুলো ছিল সারাজীবনের শ্রম। সমুদ্র ও মাছ ধরার সঙ্গে আমার গভীর সংযোগ ছিল। এখন মাছ অনেক দামি, এবং যারা সামান্য সরঞ্জাম রাখেন তারা জীবন বাজি রেখে সমুদ্রে নামছেন। আমরা দুর্ভিক্ষে মাছের জন্য হাহাকার করছি।
মন্তব্য করুন
