

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েল লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ইসরায়েলের দিকে ইরানের সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ইরান একযোগে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চল।
ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পরপরই তেল আবিব, শেফেলা এবং আশপাশের এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলেও জানা গেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কয়েকটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানার আশঙ্কা তৈরি হয়। এসব স্থানে জরুরি উদ্ধারকারী ও নিরাপত্তা দল দ্রুত মোতায়েন করা হয়েছে।
কিছু প্রতিবেদনে একটি ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। এ ধরনের ওয়ারহেড আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে ছোট ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে দেয়, যা ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।
এদিকে, হামলার পর ইসরায়েলও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে `বিস্তৃত হামলা' শুরু করেছে। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চলমান উত্তেজনার পেছনে রয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে প্রায় ১ হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিও রয়েছেন বলে কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সব পক্ষের অবস্থান এক নয়।
এর জবাবে ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, বরং জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে-এমন কয়েকটি স্থানের দিকেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এসব হামলায় হতাহত, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট আরও বেড়েছে।
পরিস্থিতির প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও পড়তে শুরু করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন
