

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কোরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্যবান নারী পুরুষের ওপর কোরবানি আদায় করা ওয়াজিব। কোরআনে আল্লাহ তাআলা কোরবানি করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি আদায় করুন।’ (সুরা কাউসার: ২)
রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি খুশি মনে সওয়াবের আশায় কোরবানি করবে, ওই কোরবানির জবেহকৃত পশু কোরবানিদাতার জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হবে।’ (আল মুজামুল কাবির: ২৬৭০)
রাসুল (সা.) কোরবানির গোশতের ব্যবহার সম্পর্কে উম্মতকে নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা নিজেরা খাও, অন্যকে আহার করাও এবং সংরক্ষণ কর।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৫৬৯)
আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানি করা পশুর মাংস ভাগ করার একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরবানির পশুর গোশত ভাগ করার নিয়মও বলে দিয়েছেন।
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরবানির গোশত একভাগ নিজের পরিবারকে খাওয়াতেন, একভাগ গরীব প্রতিবেশীদের দিতেন এবং একভাগ গরিব-মিসকিনদের দিতেন।
অনেকেই শরিকে বা ভাগে কোরবানি দিয়ে থাকেন এক্ষেত্রে বণ্টনের ক্ষেত্রে শরিয়তের অত্যন্ত কঠোর একটি বিধান রয়েছে। শরিকে কোরবানি করলে গোশত অবশ্যই নিখুঁতভাবে ওজন করে বণ্টন করতে হবে; কোনোভাবেই অনুমান বা চোখের আন্দাজে ভাগ করা জায়েজ নয়।
অংশীদাররা পারস্পরিক সম্মত থাকলেও অনুমানভিত্তিক বণ্টনের সুযোগ নেই। কারণ এভাবে ভাগ করলে কিছু না কিছু কমবেশি হওয়া স্বাভাবিক। আর গোশতের বিনিময়ে গোশতের পরিমাণে কম-বেশি হওয়াটা শরিয়তে সুদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যা হারাম। আন্দাজে বণ্টন করলে কোরবানি আদায় হলেও শরিকদের প্রত্যেকেই গুনাহগার হবেন।
ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘গোশত ওজন করেই বণ্টন করতে হবে, অনুমান করে নয়।’ (আলাউদ্দিন হাসকাফি, আদ-দুররুল মুখতার, ৬/৩১৭, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২০০২)
তবে গোশতের বাইরে পশুর অন্যান্য অঙ্গ—যেমন মাথা, পা বা কলিজা বণ্টনের সময় নিখুঁতভাবে ওজন করা জরুরি নয়; এগুলো সংখ্যা বা আন্দাজে ভাগ করা যাবে (ফখরুদ্দিন হাসান ইবনে মনসুর, ফাতাওয়ায়ে কাজিখান, ৩/৩৫১, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২০০৯)
আর যদি একটি পরিবারের সদস্যরা সবাই মিলে বা একই ঘরের যৌথ খরচে কোরবানি করেন, তবে সেই ঘরের সদস্যদের নিজেদের মধ্যে গোশত ওজন করে বণ্টন করার প্রয়োজন নেই। (মুফতি মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহি, ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া, ১৭/৪২৫, জামিয়া ফারুকিয়া, করাচি, ২০০৯)
