

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ ও কোরবানি শেষে অনেকে গরিব-অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করছেন। তবে এরই মধ্যে সেই মাংসের একটি অংশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে বিক্রি হতেও দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর বাংলামোটর, হাতিরপুল, কারওয়ান বাজার ও মিরপুর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, কম দামে মাংস কিনতে মানুষের ভিড় লেগে আছে। কোথাও ফুটপাতে পলিথিন বিছিয়ে, আবার কোথাও ছোট টেবিল সাজিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে গরু ও ছাগলের মাংস, ভুঁড়ি, মাথা, পা ও হাড়।
ক্রেতাদের মতে, বাজারের তুলনায় কম দামে মাংস পাওয়ায় অনেকেই এসব অস্থায়ী দোকানে ভিড় করছেন।
প্রতি বছরই ঈদের দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অস্থায়ী মাংসের বাজার বসতে দেখা যায়। যেখানে বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে গরিব-অসহায় মানুষের জন্য বিলিয়ে দেয়া এসব মাংস সংগ্রহ করে বাজারের তুলনায় কিছুটা কম দামে বিক্রি হয়।
সরজমিনে বাংলামোটর ও হাতিরপুল এলাকায় দেখা যায়, বিক্রেতারা মেলার মতো করে মাংসের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। কোথাও আবার মিশ্র মাংস ও হাড়সহ বিক্রি হচ্ছে আরও কম দামে।
রাজধানীর বাংলামোটর মোড়ে এক মাংস বিক্রেতা জানান, শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে কোরবানির পশুর মাংস, মাথা, পা ও হাড় সংগ্রহ করে এনে বিক্রি করছেন। অনেকেই কোরবানির বাড়তি অংশ গরিবদের দিয়ে দেন, আবার কিছু এলাকা থেকে কম দামে কিনে আনা হয়। কম দামে পাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি কিনছেন।
হাতিরপুল এলাকায় মাংস বিক্রি করা সোহেল নামে আরেক বিক্রেতা বলেন, দুপুর থেকেই ক্রেতার চাপ বেশি। অনেকেই এক কেজি বা আধা কেজি করে মাংস কিনছেন। বাজারে যে দামে মাংস বিক্রি হয়, তার চেয়ে এখানে কম হওয়ায় মানুষ আগ্রহ নিয়ে কিনছেন।
কোরবানির মাংস বিক্রি করা জাকের আলী বলেন, বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস কিনতে গেলে ৮০০ টাকার উপরে লাগে। কিন্তু এখানে সংগ্রহ করা মাংস ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। মাংসের পাশাপাশি গরুর ভুঁড়িও বিক্রি হচ্ছে। ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় ভুঁড়ি কিনতে পারছেন মানুষ। এতে নিম্ন আয়ের পরিবারের মাংসের চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ হচ্ছে।
রাজধানীর মিরপুরে কোরবানির মাংস বিক্রি করতে দেখা গেছে মৌসুমি ব্যবসায়ী রফিককে। তিনি জানান, অনেকেই সামর্থ্যের অভাবে কোরবানি দিতে পারেন না, তাই তারা কম দামে ভুঁড়ি, কলিজা কিংবা হাড় কিনছেন। মানভেদে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেউ আধা কেজি চাইলে সেটিও দেওয়া হচ্ছে।
এসব অস্থায়ী বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই পরিবারের জন্য অন্তত একবেলার মাংসের ব্যবস্থা করতে এখানে ভিড় করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা বলেন, কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই, আর বাজারেও মাংসের দাম বেশি। তাই প্রতি বছর ঈদের দিন রাস্তার পাশ থেকেই মাংস কেনেন, কারণ এখানে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়।
নাসিমা বেগম নামে এক গৃহকর্মী জানান, যে বাসায় তিনি কাজ করেন, তারা ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় এবার কোরবানির মাংস পাননি। সন্তানের আবদার মেটাতে তিনি রাস্তার পাশ থেকে মাংস কিনেছেন। তার ভাষায়, কম দামে ভালো মাংস পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।
