

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইয়েমেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের চালানো বিমান হামলায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে, যাদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। একই সময়ে প্রদেশটির বিভিন্ন এলাকায় স্থলপথে সরকারি বাহিনী ও দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) সমর্থিত যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হাদরামাউতের দুটি সামরিক স্থাপনায় একাধিক বিমান হামলা চালায়। এসব হামলায় এসটিসি বাহিনীর অন্তত ২০ সদস্য প্রাণ হারান।
এসটিসির সামরিক সূত্র ও স্থানীয় চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, প্রদেশটির সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি আল-খাশা ক্যাম্পে একের পর এক সাতটি বিমান হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি সেয়ুন এলাকার আরেকটি সামরিক ঘাঁটিতেও ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে।
ওয়াদি হাদরামাউত ও মরুভূমি অঞ্চলে এসটিসির শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ আবদুল মালিক অভিযোগ করেন, সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো পরিকল্পিতভাবে এসটিসির অবস্থান লক্ষ্য করে আঘাত হানছে। আল-খাশা ঘাঁটির পার্শ্ববর্তী একটি গ্রামের বাসিন্দা রেয়াদ খামেস জানান, আকাশে একের পর এক বিস্ফোরণের আলো দেখা যাচ্ছে। তার ভাষায়, চেকপয়েন্টগুলোতে হামলা চালিয়ে পথ পরিষ্কার করা হচ্ছে, যাতে সৌদি সমর্থিত বাহিনী সহজে অগ্রসর হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, হাদরামাউতের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে এসটিসি-সমর্থিত যোদ্ধা এবং ইয়েমেনের সরকারি সেনাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। কৌশলগত গুরুত্ব ও প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে অঞ্চলটি উভয় পক্ষের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল ঘোষণা দিয়েছে, তারা দুই বছরের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠন করবে। এই সময়কালে দক্ষিণ ইয়েমেন শাসনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতা বিষয়ে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
এর আগে গত মাসে এসটিসি হাদরামাউত এবং পূর্বাঞ্চলীয় আল-মাহরাহ প্রদেশের বিস্তৃত এলাকা দখলে নেওয়ার পর ইয়েমেন সরকার ও এসটিসির মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সৌদি আরব এই অঞ্চলগুলোকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করে, কারণ এগুলো তাদের সীমান্তের কাছাকাছি এবং ইয়েমেনের অবশিষ্ট জ্বালানি সম্পদের বড় অংশ এখানেই রয়েছে।
মন্তব্য করুন

