

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লিবিয়ার উপকূলীয় এলাকায় শরণার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সংস্থার তথ্যমতে, নৌকাটিতে প্রায় ৭৫ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আইওএম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, সমুদ্রপথে অভিবাসীদের মৃত্যু রোধে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এর আগে গত মাসে ইয়েমেনের উপকূলে শরণার্থীবোঝাই আরেকটি নৌকা ডুবে ৮৬ জনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ নিখোঁজ হন। শুধু গত বছরই ভূমধ্যসাগরের সমুদ্রপথে ন্যূনতম ২ হাজার ৪৫০ জন শরণার্থী ও অভিবাসীর প্রাণহানি ঘটে বলে আইওএমের হিসাব বলছে। তাদের মতে, এই রুট এখন মৃত্যুঝুঁকির করিডর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে লিবিয়ায় প্রায় সাড়ে আট লাখ অভিবাসী অবস্থান করছে। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর দেশটিতে অস্থিরতা বাড়তে থাকে, যা ইউরোপগামী অভিবাসীদের জন্য নতুন সমুদ্রপথের সুযোগ তৈরি করে। গাদ্দাফির আমলে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে শ্রমের খোঁজে অভিবাসীরা লিবিয়ায় আসত। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দ্বন্দ্ব বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেয়।
গত আগস্টে ইতালির ল্যামপেদুসার কাছাকাছি দুটি নৌকা ডুবে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়। জুন মাসে লিবিয়ার উপকূলে দুটি নৌকা ডুবে নিখোঁজ হয় প্রায় ৬০ জন।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, লিবিয়ায় অবস্থানরত শরণার্থী ও অভিবাসীরা নিয়মিতভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাদের ওপর চাঁদাবাজি, শারীরিক নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতার মতো ঘটনাও ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের উদ্ধার অভিযান ধাপে ধাপে কমিয়ে দেওয়ায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার যাত্রা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
মন্তব্য করুন

