

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত ও ভয়াবহ হামলায় গাজা আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
উত্তর দিক থেকে গাজা সিটির হাজার হাজার বাসিন্দা দক্ষিণের দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সেখানেও নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়, বরং নতুন করে হামলার আতঙ্ক ঘনীভূত হচ্ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক বছরে গাজা সিটিতে এত ভয়াবহ হামলা আর হয়নি। শহরের বিভিন্ন জায়গায় অবিরাম বোমাবর্ষণ চলছে।
কেউ হেঁটে, কেউ আসবাবপত্র বোঝাই গাড়ি বা গাধার গাড়িতে, আবার কেউ হাতে ব্যাগ নিয়ে শহর ছাড়ছেন। চারপাশে ধ্বংসস্তূপ, ধোঁয়া আর আতঙ্কের ছাপ।
শুরুর দিকে অনেকে শহর না ছাড়ার কথা বললেও টানা বিমান হামলায় ভবনগুলো ভেঙে পড়তে শুরু করলে অনেকেই বাধ্য হয়ে দক্ষিণে আশ্রয় নিতে যাচ্ছেন। কিন্তু রাফাহ ও খান ইউনিসসহ দক্ষিণের ক্যাম্পগুলোও নিরাপদ নয়।
আল-মাওয়াসি শরণার্থী ক্যাম্পে হামলার পর হতাশ হয়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ আবার গাজার দিকে ফিরে এসেছেন।
শুধু মঙ্গলবারের হামলায় অন্তত ৯১ জন নিহত হয়েছেন বলে মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে। ধ্বংস হয়েছে বহু আবাসিক ভবন, উপকূলীয় সড়কে বোমা ফেলা হয়েছে পালিয়ে যাওয়া মানুষের গাড়িতে, এমনকি পূর্ব গাজার একটি মসজিদেও হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন—“গাজা জ্বলছে।” একই দিনে বোমাবাহী ড্রোন ও বিস্ফোরকভর্তি রোবটও মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, একবারে ১৫টি রোবট ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলো প্রতিটিই কয়েক ডজন বাড়ি ধ্বংস করতে সক্ষম।
জাতিসংঘ মহাসচিব এই হামলাকে ভয়াবহ বলে আখ্যা দিয়েছেন। জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন সরাসরি একে “গণহত্যা” বলেছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকেও ইসরায়েলের নিন্দা আরও জোরালো হচ্ছে।
গাজা সিটি থেকে ঠিক কত মানুষ পালিয়েছেন তা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করছে, সাড়ে তিন লাখ মানুষ শহর ছেড়েছেন। অন্যদিকে গাজার গণমাধ্যম বলছে, প্রায় সমানসংখ্যক মানুষ শহরের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছেন এবং প্রায় দুই লাখ মানুষ পুরোপুরি শহর ত্যাগ করেছেন।
মঙ্গলবার ভোর থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ১০৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় সেনাবাহিনী ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান নিয়ে শহরের ভেতর অগ্রসর হওয়ার কথাও জানিয়েছে। তাদের মতে, পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে কয়েক মাস সময় লাগলেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গাজার বাসিন্দারা বলছেন, এটি যুদ্ধ নয়, বরং পরিকল্পিত গণহত্যা। কারণ পালানোর মতো কোনো নিরাপদ পথ খোলা নেই— উত্তরে ধ্বংস, দক্ষিণে হামলা। ফলে জীবিত ফিরে আসা নিয়েই অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
মন্তব্য করুন
