

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পূর্ব তিমুরে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক আন্দোলনের ঢেউ রাজধানী দিলি পর্যন্ত পৌঁছেছে। প্রধানত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হাজারো তরুণ সংসদের ৬৫ সদস্যের জন্য টয়োটা প্রাডো এসইউভি কেনার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) টানা দ্বিতীয় দিনে বিক্ষোভ আরও উত্তেজিত হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে টায়ার জ্বালানো, সড়ক অবরোধ এবং সরকারি গাড়িতে আগুন ধরানোসহ পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে, যা শহরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।
প্রায় দুই হাজার বিক্ষোভকারীর অধিকাংশই তরুণ শিক্ষার্থী। তাদের দাবি স্পষ্ট—সংসদের বিলাসবহুল গাড়ি কেনার পরিকল্পনা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
বিক্ষোভকারীরা ‘চোরদের থামাও’ লেখা ব্যানার হাতে নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। আন্দোলনের নেতা ডমিঙ্গোস দে আন্দ্রাদে (৩৪) বলেন, “সংসদ সভাপতি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করুন, তা না হলে আন্দোলন চলবে।”
বিক্ষোভের আগে কয়েকটি রাজনৈতিক দল সংসদে গাড়ি কেনার প্রস্তাব বাতিল করার উদ্যোগ জানিয়েছে। তবে সমালোচনা রয়েছে, যেসব রাজনৈতিক দল এখন গাড়ি বাতিলের পক্ষে, তারা বাজেট অনুমোদনের সময় এই বরাদ্দে সমর্থন জানিয়েছিল।
পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোরতা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সরকার বা সংসদ ভুল করলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা নাগরিকের অধিকার, কিন্তু সহিংসতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”
২০০২ সালে স্বাধীনতা পাওয়া পূর্ব তিমুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দরিদ্র দেশ। তেলের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতি, বেকারত্ব, অপুষ্টি ও বৈষম্য এখানে প্রকট। এমপিদের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের কাছে অযৌক্তিক বিলাসিতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আন্দোলন শুধু গাড়ি কেনার বিরোধী নয়, বরং রাজনৈতিক নেতাদের বিলাসিতা ও তরুণদের দীর্ঘ দিনের হতাশার প্রতিফলন। অনেকের মতে, পার্শ্ববর্তী ইন্দোনেশিয়ায় সাম্প্রতিক জেন-জি আন্দোলনের প্রভাব এবার পূর্ব তিমুরে দেখা যাচ্ছে।
সূত্র : আরব নিউজ
মন্তব্য করুন
