সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, যোগ দিচ্ছেন হাজার হাজার নারী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
সামাজিক সুরক্ষায় না পাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গে নারীদের তুমুল সরকারবিরোধী বিক্ষোভ । ছবি: সংগৃহীত
expand
সামাজিক সুরক্ষায় না পাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গে নারীদের তুমুল সরকারবিরোধী বিক্ষোভ । ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের টাকা না পাওয়ার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন হাজার হাজার নারী। কোথাও হয়েছে রাস্তা অবরোধ, কোথাও রেল অবরোধ, আবার কোথাও মন্ত্রীদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যের প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের জন্য ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নামে একটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু করেছিল। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সরাসরি জমা হতো। পরবর্তীতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দেয়, ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আওতাভুক্ত নারীদের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র মাধ্যমে মাসে ৩ হাজার রুপি করে দেওয়া হবে।

অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেসব পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছল বা স্বনির্ভর, তাদের নারীদের এই প্রকল্পের আওতায় রাখা হবে না। পাশাপাশি টাকা পাওয়ার জন্য এমন কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা অনেক নারীর ক্ষেত্রেই পূরণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর ফলে বিপুল সংখ্যক নারী নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় শুরু হয়েছে ধারাবাহিক বিক্ষোভ। কোথাও রাস্তায় নেমে অবরোধ, কোথাও রেললাইন অবরোধ, আবার কোথাও মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন নারীরা।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সকল যোগ্য নারীকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় এনে নির্ধারিত অর্থ প্রদান করা উচিত। শর্তের বেড়াজালে বিপুল সংখ্যক নারীকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁরা মেনে নিতে নারাজ।

রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন তারা। উপভোক্তাদের অভিযোগ, সমস্ত নথিপত্র জমা দেয়া এবং আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পরেও তাদের অ্যাকাউন্টে প্রতিশ্রুতির ৩ হাজার টাকা ঢোকেনি। মুখ্যমন্ত্রীর দেয়া ২০ তারিখের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা।

পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দপ্তরে বৈঠক চলাকালীন নারীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ছেড়ে নীচে নেমে আসেন এবং তাদের অভাব-অভিযোগ শোনেন। তিনি আশ্বাস দেন, যাচাই প্রক্রিয়ায় কেন সমস্যা হয়েছে তা খতিয়ে দেখবেন তিনি। পাশাপাশি, এসডিও বা বিডিও অফিসে সঠিক নথিপত্র জমা দেয়ার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।

উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটিতে রেললাইনে নেমে অবরোধ করেন কয়েকশো নারী। এর জেরে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিট নাগাদ শিয়ালদহগামী ডাউন লোকাল ট্রেন দাঁড়িয়ে যায় এবং এক ঘণ্টারও বেশি সময় ওই রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়। হাবড়াতেও পুরসভা এবং রেললাইনে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগীরা। কলকাতাতেও ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভের আঁচ। ফুলবাগান থানার সামনে এবং বেহালা চৌরাস্তায় রাস্তা অবরোধ করেন নারীরা। এর জেরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিকে আলিপুরদুয়ারের ধূপগুড়িতে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় বিক্ষোভকারীদের। পাশাপাশি বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ও বড়জোড়া, মালদাহর হরিশ্চন্দ্রপুর এবং হুগলির চণ্ডীতলাতেও বিডিও ও মহকুমাশাসকের দপ্তরে বিক্ষোভ এবং পথ অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ নারীরা। তাদের একটাই দাবি, বারবার হয়রানি বন্ধ করে যোগ্য উপভোক্তাদের সকলকেই দ্রুত অর্থ প্রদান করতে হবে।

তবে বিজেপি সরকারের দাবি, আগস্টের ২২ তারিখ পর্যন্ত প্রায় এক কোটির বেশি নারীকে অর্থ দেয়ার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকিরাও খুব দ্রুত এই প্রকল্পের আওতায় চলে আসবেন। যদিও বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেছেন, লক্ষীর ভাণ্ডার নিয়ে অভ্যাস হয়ে গেছে। এটাও পরিষ্কার জানা উচিত, সব সুবিধা সবার জন্য নয়। কেন্দ্রীয় সরকার নানান প্রকল্প করেছে, রাজ্য সরকার ও করেছে। তার একটা সীমা আছে। তার জন্য ক্রাইটেরিয়া ঠিক করা আছে। এর মধ্যে যারা পড়বেন তারা পাবেন। দানধ্যানে সবাইকে দেয়া হবে এই অভ্যাস খারাপ করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এটা সবাইকে বুঝতে হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন