

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের উত্তরপ্রদেশে (ইউপি) মুসলমানদের ওপর দমন-পীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যটিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিশেষ করে তরুণ মুসলমানদের বিরুদ্ধে দমনমূলক অভিযান, গ্রেপ্তার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় “আই লাভ মুহাম্মদ (সা.)” লেখা ব্যানার বহনের ঘটনায় বরেলি, কানপুরসহ একাধিক জেলায় ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, শুধুমাত্র এই ঘটনায়ই ৬০ জনেরও বেশি মুসলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি রাজ্য সরকারের ধর্মীয় প্রকাশে শূন্য সহনশীল নীতির প্রতিফলন।
আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ইত্তেহাদে মিল্লাত পরিষদের সভাপতি মাওলানা তৌকির রাজা খানও রয়েছেন। তার গ্রেপ্তারকে পর্যবেক্ষকরা সংবিধান প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন। ভারতীয় সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মচর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এরই মধ্যে রাজ্যের জৌনপুর জেলার মুয়ারকি গ্রামে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে গ্রাম প্রধান সাদিক আহমেদের বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। কর্মকর্তারা দাবি করেন, তিনি সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত জমি অবৈধভাবে দখল করেছিলেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ-এটি সরাসরি বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ; এলাকাটিতে বহু অবৈধ স্থাপনা থাকা সত্ত্বেও কেবল মুসলিম প্রধানের বাড়িকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এর আগে সাম্ভাল জেলায় ৩০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ-‘ছোট্টি মসজিদ’-পুলিশি পাহারায় ভেঙে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনাটি রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের জন্ম দেয়।
বিজেপির জ্যেষ্ঠ মুসলিম নেতা ড. জাহানজেব সিরওয়াল প্রকাশ্যে উত্তরপ্রদেশ সরকারের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা যদি রক্ষা না করা হয়, তবে পদত্যাগ ছাড়া বিকল্প থাকবে না। তার মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা রাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন।
আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মুফতি জাহিদ আলী খান বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। অপরদিকে, ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা আবদুল হামিদ নোমানি সতর্ক করে বলেন, ভারতের বহুত্ববাদী ঐতিহ্য হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির চাপে সংকটে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং অন্যান্য সংস্থা এই পদক্ষেপগুলোর কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, উত্তরপ্রদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে এই ধরনের আচরণ মৌলিক মানবাধিকার ও সংবিধানিক স্বাধীনতার পরিপন্থী।
মন্তব্য করুন
