

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। আটক হওয়ার পর এক ভিডিও বার্তায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন রাহুল।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এনইইটি প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদে কংগ্রেসের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাত ৯টার দিকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাসহ আটক নেতাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
আটক অবস্থায় প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় সরকারের কাছে পাঁচটি দাবি জানান রাহুল গান্ধী
১. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
২. শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার।
৩. শিক্ষার্থী বিক্ষোভ দমনে সরকারের পদক্ষেপের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা।
৪. বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা।
৫. দ্রুত শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার।
ভিডিও বার্তায় রাহুল বলেন, ‘ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে? কেন বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে? কেন শিক্ষা এত ব্যয়বহুল? কেন সন্তানদের পড়াতে গিয়ে পরিবারগুলো আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে? এগুলো সম্পূর্ণ যৌক্তিক প্রশ্ন, আর এসব প্রশ্ন তোলা কোনোভাবেই ভুল নয়।’
তিনি আরও জানান, বিরোধী জোটের সব দলই এ বিষয়ে লোকসভা ও রাজ্যসভায় আলোচনা চায়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাহুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যারা লড়াই করছেন, তাদের সবাইকে হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই।’
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিক্ষোভস্থলে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী সংসদে আলোচনা চাওয়ার আগের অবস্থান থেকে সরে এসে এখন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে জোর দিচ্ছেন।
অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, সরকার আলোচনা করতে প্রস্তুত থাকলেও বিরোধী দল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিস্থিতিকে ব্যবহার করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক প্রচারই কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য।