

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কুদানকুলামের বিভিন্ন অবকাঠামোর নকশা এবং সরবরাহকারী সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ স্পর্শকাতর তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়েছে। ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামের একটি পরিচিত র্যানসামওয়্যার গ্রুপ ইন্টারনেটের গোপন এই জগতে ফাইলগুলো প্রকাশ করেছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অন্যতম ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনিল আম্বানির ‘রিলায়েন্স গ্রুপ’ এই আংশিক ডেটা ফাঁসের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে যে তারা বিষয়টি ইতোমধ্যেই সরকারকে অবহিত করেছে।
তামিলনাড়ুর কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ভারতের পারমাণবিক শক্তি সক্ষমতা বৃদ্ধির মহাপরিকল্পনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা গবেষক রাকেশ কৃষ্ণান রয়টার্সকে জানান, গত ১১ জুন থেকে ডার্ক ওয়েবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সংক্ষিপ্ত রূপ ‘কেকেএনপি’ সংবলিত প্রায় ১৯,০০০টি ফাইল (যার আকার প্রায় ১৪.৩ গিগাবাইট) উন্মুক্ত রয়েছে।
এই ডেটাগুলো ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের। রয়টার্স নথিগুলো পর্যালোচনা করলেও এর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। রিলায়েন্সের প্রায় সাড়ে আট লাখ ফাঁসের নথির মধ্যে এই পারমাণবিক কেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্যগুলোই সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল।
রিলায়েন্স গ্রুপ জানিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইওটা’-র সার্ভারে সংরক্ষিত তাদের কিছু ডেটা আংশিক হ্যাক হয়েছে। অন্যদিকে ইওটা জানিয়েছে, মে মাসের শেষের দিকে তারা সার্ভারে সন্দেহজনক কার্যক্রম টের পেয়ে তা বন্ধ করে দেয়।
তবে জুন মাসের শেষের দিকে রিলায়েন্স তাদের জানায় যে বহিরাগত হ্যাকাররা ডেটা ফাঁসের দাবি করছে। ভারতের প্রধান সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘সার্ট-ইন’ এবং ভারতের নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন এই ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।
অবশ্য নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন এক বিবৃতিতে আশ্বস্ত করেছে যে ডার্ক ওয়েবে আসা তথ্যগুলো কেবল সাধারণ সেবা কেন্দ্রের সাথে সম্পর্কিত। এর সাথে পারমাণবিক নিরাপত্তা বা মূল পারমাণবিক ব্যবস্থার কোনো সংযোগ নেই।
ফাঁস হওয়া নথিতে পারমাণবিক চুল্লির মূল সিস্টেমের (যা রাশিয়ার রোসাটম সরবরাহ করেছে) কোনো তথ্য নেই। তবে এতে নির্মাণাধীন ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটের ভেন্টিলেশন, কুলিং সিস্টেমের নকশা, কন্ট্রোল রুমের ফ্লোর লেআউট, যন্ত্রপাতির ছবি, অনুমোদিত সরবরাহকারীদের তালিকা এবং একটি ১১২ মিলিয়ন ডলারের সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত বীমা পলিসির তথ্য রয়েছে।
নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের সিনিয়র ডিরেক্টর নিকোলাস রথ সতর্ক করে বলেছেন, এই ডেটা ফাঁসের ফলে কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ক্ষতিকর কোনো পক্ষ এই নথির সূত্র ধরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করতে পারে। এটি ভারতের কর্পোরেট খাতের দুর্বল সাইবার নিরাপত্তাকেই স্পষ্ট করে তোলে।
এর আগে ২০১৯ সালেও কুদানকুলাম বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রশাসনিক নেটওয়ার্কে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের ম্যালওয়্যার পাওয়া গিয়েছিল। আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সার্ফশার্কের মতে, সাইবার হামলার শিকার হওয়া দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে বিশ্বে ভারতের অবস্থান তৃতীয়।
সূত্র: রয়টার্স।