

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের রাজস্থানের জয়সলমের জেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৯ জন বাসযাত্রীর। মঙ্গলবার জয়সলমের থেকে জোধপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ওই দিন বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ৫৭ যাত্রী নিয়ে বাসটি জয়সলমের থেকে ছেড়ে আসে। পথিমধ্যে জয়সলমের-জোধপুর হাইওয়েতে চলার সময় বাসের পেছনের দিক থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
চালক দ্রুত বাসটি থামিয়ে সড়কের পাশে নেন। কিন্তু এরই মধ্যে আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আগুনের ভয়াবহতায় যাত্রীরা ফেঁসে যান।
পথচারী ও স্থানীয় লোকজন আগুন দেখে ছুটে এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। তবে অনেক যাত্রী তখনও বাস থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাননি। তারা আগুনের কবলে পড়ে প্রাণ হারান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুনের গতি এতটাই দ্রুত ছিল যে, যারা বের হতে পারেননি, তারা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে যারা গুরুতর অবস্থায় ছিলেন, তাদের জয়সলমেরের জওহর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বাসটিতে আগুন লাগার কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটকেই দায়ী করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই উদ্ধার অভিযান শুরু হয় এবং আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। জেলা কালেক্টর প্রতাপ সিংহ জানিয়েছেন, আহতদের জন্য জরুরি সহায়তা চালু করা হয়েছে এবং হেল্পলাইন নম্বর খোলা হয়েছে যেন স্বজনরা দ্রুত খোঁজখবর নিতে পারেন।
রাজ্যের শীর্ষ নেতারা এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। রাজ্যপাল হরিভাউ বাগাড়ে, মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি মদন রাঠোর এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা এক বিবৃতিতে বলেন, জয়সলমেরে চলন্ত বাসে আগুন লাগার ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ও নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও বলেন, এই শোকাবহ ঘটনায় আমরা নিহতদের পরিবারের পাশে আছি এবং উদ্ধার ও পুনর্বাসন কাজে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
মন্তব্য করুন
