

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


উত্তরপ্রদেশের বাগপত জেলায় এক হত্যাকাণ্ডে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামের স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তানকে নিজ বাসায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন গাঙ্গনাউলি গ্রামের প্রধান মসজিদের ইমাম ইব্রাহিমের স্ত্রী ইশরানা (৩০) এবং তাঁদের দুই মেয়ে সোফিয়া (৫) ও সুমাইয়া (২)। ঘটনাস্থল ছিল মসজিদ প্রাঙ্গণে থাকা ইমামের সরকারি বাসভবন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় ইমাম ইব্রাহিম দেওবন্দে কাজে গিয়েছিলেন। প্রতিদিনের মতো শিশুদের পড়াতে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রথমে ঘরের দরজা খোলা ও ভেতরে রক্তাক্ত দেহ দেখতে পায়, এরপর পুরো গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে বাগপতের পুলিশ সুপার সুরজ কুমার রাই, অতিরিক্ত এসপি প্রবীণ কুমার চৌহান এবং সার্কেল অফিসার বিজয় কুমার দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের ক্ষোভ সামলাতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। পরে কর্মকর্তাদের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে চমকে যাওয়ার মতো তথ্য মিলেছে। সন্দেহভাজন হিসেবে ইমামের মসজিদের দুই ছাত্রকে (বয়স ১৩ ও ১৬) আটক করা হয়েছে। পুলিশ সুপার জানান, দুজনই মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল। ইমামের বকাঝকা ও শাস্তির কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, খুনের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে মসজিদের ভেতরে থাকা ধারালো একটি বস্তু।
মিরাট রেঞ্জের ডিআইজি কালানিধি নাইথানি বলেন, আমরা পারিবারিক বিরোধ, ডাকাতি বা ব্যক্তিগত শত্রুতাসহ সব দিক যাচাই করছি। ইতোমধ্যে পাঁচটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।
ইমাম ইব্রাহিমের গ্রামের বাড়ি মুজাফ্ফরনগরের সুন্না এলাকায়। গত চার বছর ধরে তিনি গাঙ্গনাউলির ওই মসজিদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর স্ত্রী ইশরানা স্থানীয় শিশুদের কোরআন শিক্ষা দিতেন এবং সমাজে শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, তাঁরা কখনও কারও সঙ্গে ঝামেলায় জড়াননি। এমন নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডে আমরা স্তম্ভিত।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন
