শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারতে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এএফপি
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:১৩ পিএম
সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারতে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী
expand
সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারতে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারত ও কানাডার মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। সোমবার (১৩ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রাষ্ট্রদূত বিনিময় পুনরায় শুরু হওয়ার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।

বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত-কানাডা সম্পর্ক ধীরে ধীরে ইতিবাচক পথে অগ্রসর হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা কানাডাকে একটি উন্মুক্ত সমাজ ও সহযোগিতাপূর্ণ অর্থনীতি হিসেবে দেখি। দুই দেশের সম্পর্ক এখন পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠছে।

২০২৩ সালে ভ্যাঙ্কুভারে এক কানাডীয় শিখ নেতার হত্যাকে কেন্দ্র করে ভারত-কানাডা সম্পর্ক তীব্র সংকটে পড়ে। অটোয়া অভিযোগ তোলে যে, ওই হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত ছিল-যা নয়াদিল্লি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে।

এর পরিণতিতে দুই দেশের দূতাবাস ও বাণিজ্য কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২৩ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার।

২০২৪ সালের মার্চে কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সম্পর্কের অগ্রগতি দেখা যায়। কার্নি ও মোদি জুন মাসে জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করেন এবং নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগে সম্মত হন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ বলেন, মোদির সঙ্গে আমার এই আলোচনা ছিল প্রধানমন্ত্রীর (কার্নি) সঙ্গে তার আলোচনার ধারাবাহিকতা রক্ষা করার প্রচেষ্টা।

তিনি এক্সে (পূর্বে টুইটার) লিখেছেন, আইন প্রয়োগ, নিরাপত্তা সংলাপ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কানাডা ও ভারত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোয় মার্কিন নীতির পরিবর্তনের পর ভারত ও কানাডা উভয় দেশই একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী হয়েছে।

নয়াদিল্লিতে সরকারি বৈঠক শেষে আনন্দ ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং মুম্বাইয়ের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, কানাডায় ভারতের বাইরে সবচেয়ে বড় শিখ জনগোষ্ঠী বসবাস করে। এই সম্প্রদায়ের মধ্যেই রয়েছে ‘খালিস্তান’ আন্দোলনের সমর্থকরা, যারা ভারতের পাঞ্জাব অঞ্চলে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি জানায়। ১৯৮০-এর দশকে এই আন্দোলন ঘিরে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাসহ ভয়াবহ সহিংস ঘটনার জন্ম দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই জটিল ইস্যু এখনও দুই দেশের সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে প্রভাবিত করে যাচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন