

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের রাজস্থান রাজ্যের জয়পুরে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালীন হামলার শিকার হন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা প্রধান অভিজিৎ দীপকে। এ ঘটনায় মোটেও ভীত নন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দীপকে। একইসঙ্গে এই হামলার পেছনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভারতের নাগপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দীপকে এ মন্তব্য করেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নাগপুরের সংবিধান স্কোয়ারে সিজেপির একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে যান তিনি।
অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আমরা মহাত্মা গান্ধী এবং বি আর আম্বেদকরের আদর্শে বিশ্বাসী সত্যাগ্রহী। এই ধরনের কাপুরুষোচিত হামলায় আমরা বিন্দুমাত্র ভয় পাই না। আমি নিশ্চিতভাবে জানতে পেরেছি, হামলাকারীরা আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত ছিল। বর্তমান সময়ে যখনই কেউ এই কেন্দ্রীয় সরকার কিংবা তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে মুখ খোলে, তখনই তাদের ওপর এই কায়দায় হামলা চালানো হয়।’
জাতীয় গণমাধ্যম পিটিআইয়ের বরাতে জানা গেছে, দীপকে অভিযোগ করেন, আরএসএসের লোকেরা এই কাজ করেছে। এতে নতুন কিছু নেই।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আরএসএসের সঙ্গে তার কথিত সুসম্পর্কের যে দাবি তোলা হচ্ছিল, সেটিকে ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘তাহলে কি সে কারণে গতকাল তারা আমার ওপর হামলা চালিয়েছে?’
তিনি দাবি করেন, ‘শিক্ষার্থীদের অধিকারের মূল ইস্যু থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘুরিয়ে দিতে এই পরিকল্পিত হামলা। আপনারা যত খুশি আমাদের ওপর আক্রমণ করতে পারেন, আমরা আমাদের দাবি থেকে এক চুলও নড়ব না। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পথে আমাদের এই আন্দোলন চলবে। দেশের এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে এর সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে।’
সোমবার (১৫ জুন) জয়পুরের শহীদ স্মারকে সিজেপির এক সমাবেশ চলাকালীন একদল যুবক অভিজিৎ দীপকেকে লক্ষ্য করে একাধিকবার থাপ্পড় মারে বলে অভিযোগ ওঠে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভারতের ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব সংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। সেখানে শত শত তরুণ-তরুণী দুর্নীতি ও পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে প্ল্যাকার্ড হাতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, দীপকে যখন সমর্থকদের কাঁধে চড়ে সভাস্থলে আসছিলেন, তখন ভিড়ের ভেতর থেকে কয়েকজন যুবক আচমকা তাকে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করে। এতে ক্ষুব্ধ সিজেপি সমর্থকরা অভিযুক্তদের ধরে পাল্টা মারধর শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে রোহিত শর্মা, রাকেশ গুর্জর, অজয় শর্মা, কূলদীপ সিং এবং নিকেত নামের পাঁচ যুবককে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলার পরও বিক্ষোভ থেমে যায়নি। দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে স্লোগান চলতে থাকে।
পরে দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লেখেন, শারীরিক হামলা আসলে ভয় ও কাপুরুষতার বহিঃপ্রকাশ। দলের জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এই হামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে হামলাকারীদের বিজেপির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন।
