

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে মাঝারি পাল্লার স্থল-আক্রমণকারী সাবসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এই পরীক্ষাকে ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।
সোমবার (১৫ জুন) রাতে ওড়িশার চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (আইটিআর) থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালানো হয়। এটি মার্কিন ‘টমাহক’ প্রযুক্তির আদলে তৈরি ভারতীয় সংস্করণ বলে জানা গেছে।
ডিআরডিও সূত্রের বরাতে জানা যায়, এখনো আনুষ্ঠানিক নাম না পাওয়া এই ক্ষেপণাস্ত্রটি এক হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এটি ভারতের আগের ‘নির্ভয়’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের পরবর্তী উন্নত সংস্করণ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এতে পাল্লা, নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং লক্ষ্যভেদ ক্ষমতায় বেশ কিছু উন্নয়ন আনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থল, নৌ ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণের উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে যুক্ত করার আগে আরও কয়েকটি উন্নয়নমূলক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সাবসনিক গতির এই ক্ষেপণাস্ত্র ঘণ্টায় প্রায় ০.৮ ম্যাক গতিতে চলতে পারে। ভূমির কাছাকাছি দিয়ে উড়তে সক্ষম হওয়ায় শত্রুপক্ষের রাডারে এটি শনাক্ত করা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। এতে প্রায় ৫০০ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে নির্ভুল ও দূরপাল্লার আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বাড়তি সক্ষমতা যোগ করতে পারে।
ভারতের এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক সামরিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটেও দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের কাছে ‘বাবর’ নামে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যার পাল্লা প্রায় ৯০০ কিলোমিটার। অন্যদিকে চীনের অস্ত্রভান্ডারেও বিভিন্ন ধরনের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
এর আগে ভারত চলতি বছরের মে মাসে স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-১-এর পরীক্ষাও চালায়। ভ্রাম্যমাণ লঞ্চার থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং এতে উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিআরডিও।
এ ছাড়া এর আগে বঙ্গোপসাগর এলাকায় ভারত একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালায়। যদিও ওই ক্ষেপণাস্ত্রের আনুষ্ঠানিক নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
