

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দুবাইয়ে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমদের আটক ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পরিবারের দাবি, তাকে বিমানবন্দর থেকে নয়, বরং গত ১২ জুন বাসার কাছের একটি শপিং মল থেকে আটক করে দুবাই পুলিশ।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক সংসদ সদস্য, যিনি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ব্যবসায়িক সহযোগী হিসেবে পরিচিত, ফোন করে কাছের একটি শপিং মলে দেখা করতে বলেন। সেখানে পৌঁছানোর পরই আগে থেকে অবস্থান নেওয়া দুবাই পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় বলে দাবি তাদের। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে ওই সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ কিছু লোকও উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, দুবাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা জানতে পেরেছেন যে স্থানীয়ভাবে বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।
তাদের দাবি, বাংলাদেশ পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশের কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে রেড নোটিশসংক্রান্ত নথি দুবাই পুলিশের কাছে পৌঁছে দেন। তবে এই অভিযোগের স্বতন্ত্র কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।
বেনজীর আহমদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, আটকের পর দুবাই পুলিশ তার ভিসার বৈধতা, দেশটিতে অবস্থানের উদ্দেশ্য এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে যাচাই করে। পরে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোল নোটিশ রয়েছে—এ তথ্য ঢাকার ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ও বাংলাদেশ পুলিশকে অবহিত করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুবাইয়ে একজন স্থানীয় আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদালত নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরলে তাকে আদালতে হাজির করা এবং জামিন আবেদন করার সম্ভাবনা রয়েছে। দুবাইয়ে টানা সরকারি ছুটির কারণে কয়েক দিন আদালতের কার্যক্রম সীমিত ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আদালতে হাজির করা হলে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করবেন। অন্যদিকে, হাজির না করা হলে প্রক্রিয়াগতভাবে প্রসিকিউশন দপ্তরে প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দেওয়া হবে।
এদিকে বাংলাদেশ পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ইন্টারপোল নোটিশের ভিত্তিতেই বেনজীর আহমদের বিষয়ে দুবাই পুলিশ তাদের অবহিত করেছে। তবে আটক প্রক্রিয়াটি কেবল নিয়মিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ ছিল নাকি এর পেছনে অতিরিক্ত কোনো প্রেক্ষাপট রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে দেশে একাধিক মামলা ও অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তার গ্রেপ্তারের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখন মূলত দুবাইয়ের আদালত, প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দুবাইয়ে আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার পর তার আটক, জামিন এবং সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ বিষয়ে আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।
