বুধবার
০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আরও শতাধিক রাফাল যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ১১:০৫ এএম
ফ্রান্সের তৈরি যুদ্ধবিমান দাসো রাফাল ।। ফাইল ছবি
expand
ফ্রান্সের তৈরি যুদ্ধবিমান দাসো রাফাল ।। ফাইল ছবি

ভারতীয় বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে ফ্রান্স থেকে আরও ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে ভারত। প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে ফ্রান্সের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এমন সময় চার দিনের সফরে ফ্রান্সে গেছেন ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিং। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের রাফাল বহর বেড়ে দাঁড়াবে ১৭৬টিতে, যা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় ধরনের শক্তি যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাব পাওয়ার পর ফ্রান্স এখন যুদ্ধবিমানের মূল্য, উৎপাদন সক্ষমতা এবং লজিস্টিক সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রস্তুত করবে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রাথমিক জবাব আসতে পারে। এরপর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক আলোচনা, যা এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিংয়ের ফ্রান্স সফরকে শুধু আনুষ্ঠানিক সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে না। সফরের সময় তিনি ফ্রান্সের প্রধান প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রাফাল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান দাসো অ্যাভিয়েশন এবং মিটিওর ও স্ক্যাল্পের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমবিডিএ-ও রয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও চলতি জুনের মাঝামাঝি সময়ে ফ্রান্স সফর করতে পারেন। সফরটি হলে রাফাল চুক্তি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এই নতুন যুদ্ধবিমানের বড় অংশ ভারতে উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৪টি স্থানীয়ভাবে সংযোজন বা উৎপাদনের কথা বিবেচনায় আছে। প্রতিরক্ষা খাতে স্থানীয় উপাদান ব্যবহারের হার প্রায় ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর নীতিতে এগোচ্ছে, যার অংশ হিসেবে এই প্রকল্পকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অনুমোদিত স্কোয়াড্রন সংখ্যা ৪২ হলেও বাস্তবে রয়েছে ২৯টি। পুরোনো মিগ-২১ সিরিজের বিমান ধাপে ধাপে অবসরে যাওয়ায় এই ঘাটতি আরও বেড়েছে। এ কারণেই নতুন বহুমুখী যুদ্ধবিমান সংযোজনকে জরুরি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন রাফাল যুক্ত হলে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি চীন ও পাকিস্তান সীমান্তে কৌশলগত অবস্থানও আরও শক্তিশালী হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন