

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কঠোর ভিসানীতির ফলে বিপাকে পড়েছেন দেশটির উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী ভারতীয় শিক্ষার্থীরা। এতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বেশ সমালোচনার মধ্যে পড়েছেন।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রহী ভারতীয়দের ভিসা অনুমোদনের হার প্রায় ৪৪.৫ শতাংশ কমে গেছে।
ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিশনের তথ্য বলছে, চলতি বছরের আগস্টে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মোট ভিসা ইস্যু ১৯.১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বিশেষ করে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছেন। একই সময়ে ৮৬ হাজারেরও বেশি চীনা শিক্ষার্থী মার্কিন ভিসা পেয়ে গেছেন, যা ভারতীয়দের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক পদক্ষেপের কারণে চীনা শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ বাড়ানো হয়েছে, আর ভারতীয়দের ভিসা সীমিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের বিরুদ্ধে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের কারণে হাজার হাজার বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় শিক্ষার্থীও অন্তর্ভুক্ত।
শিক্ষাবিদরা আশঙ্কা করছেন, এই নীতি ভবিষ্যতে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আরও কমিয়ে দিতে পারে।
নতুন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারতীয়দের জন্য এখন থেকে ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় কনস্যুলেটে সরাসরি সাক্ষাৎকার বাধ্যতামূলক। আগে এটি তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল। এছাড়া এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধি প্রযুক্তি খাতে কাজ করতে আগ্রহী ভারতীয় প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের জন্য বড় ধাক্কা।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের গন্তব্য ছিল। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগের কারণে তারা সেখানে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী। কিন্তু সাম্প্রতিক কঠোর নীতি ও প্রশাসনিক জটিলতা এই ‘আমেরিকান ড্রিম’-কে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, ভবিষ্যতে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপের দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা মার্কিন শিক্ষাবাজারে বড় প্রভাব ফেলবে।
মন্তব্য করুন
