

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী জয়পুরের অন্যতম বড় সরকারি হাসপাতাল সোয়াই মান সিং (এসএমএস)–এর ট্রমা সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার মধ্যরাতে নিউরো আইসিইউতে আগুন লাগলে আটজন রোগীর মৃত্যু হয়। এনডিটিভিসহ বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যম এই খবর নিশ্চিত করেছে।
ট্রমা সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক অনুরাগ ধাকাড জানিয়েছেন, রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে নিউরো আইসিইউ–এর স্টোররুমে হঠাৎ আগুন লাগে। তখন আইসিইউতে ১১ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আগুন লাগার পর মুহূর্তেই ঘন ধোঁয়া পুরো ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে। রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে যায়, হাসপাতালজুড়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ধোঁয়া ও আগুনে আইসিইউর নথি, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, রক্তের নমুনা এবং স্টোররুমে রাখা অন্যান্য সরঞ্জাম পুড়ে যায়।
উদ্ধার অভিযান
হাসপাতালের কর্মীরা এবং রোগীর পরিচারকেরা মিলে রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অনেককে বিছানাসহ টেনে বের করা হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ওয়ার্ড বয় বিকাশ ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, “আমরা খবর পাওয়া মাত্রই দৌড়ে যাই এবং সেন্টারের ভেতরে থাকা রোগীদের বের করার চেষ্টা করি। অন্তত তিন–চারজনকে আমরা বাঁচাতে পেরেছি। কিন্তু ধোঁয়া ও আগুন বাড়তে থাকায় পরে আর ভেতরে যাওয়া সম্ভব হয়নি। যতটা সম্ভব আমরা উদ্ধার করেছি।”
তিনি আরও জানান, পুলিশ ও দমকলকর্মীরা পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছান, কিন্তু প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে তারা প্রথমে ভবনে প্রবেশ করতে পারেননি।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা, সংসদবিষয়ক মন্ত্রী যোগারাম প্যাটেল এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জওহর সিং বেধাম ট্রমা সেন্টার পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
প্রথমে পৌঁছানো প্যাটেল ও বেধামের সামনে কয়েকজন রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, আগুনের সময় হাসপাতালের অনেক কর্মী পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং পরে রোগীদের অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি। পরে মুখ্যমন্ত্রী শর্মা চিকিৎসক ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত করেন।
সার্বিক পরিস্থিতি
হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে, আগুনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং নিহতদের পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।
মন্তব্য করুন
