মঙ্গলবার
১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ কন্যার পর পুত্রসন্তান, মেয়েদের নাম বলতে পারলেন না বাবা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৯ বছরের পারিবারিক জীবনে একের পর এক দশটি কন্যাসন্তানের জন্মের পর অবশেষে পুত্রসন্তানের মুখ দেখেছেন ভারতের হরিয়ানার এক দম্পতি।

৩৭ বছর বয়সী ওই নারী সম্প্রতি জিন্দ জেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এনেছে দেশটির কিছু অঞ্চলে এখনো বিদ্যমান ছেলেসন্তান–কেন্দ্রিক মানসিকতার বিষয়টি।

গত ৪ জানুয়ারি জন্মের পর মা ও নবজাতককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে তারা ফতেহাবাদ জেলার নিজ গ্রামে ফিরে যান।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানান, প্রসবকালীন জটিলতার কারণে মাকে তিন ইউনিট রক্ত দিতে হয়। তবে বর্তমানে মা ও সন্তান দুজনই সুস্থ রয়েছেন।

শিশুটির বাবা সঞ্জয় কুমার ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, পরিবারের সবাই ছেলেসন্তানের প্রত্যাশা করছিলেন। বড় মেয়েটিও ছোট ভাই পাওয়ার আশায় ছিল বলে জানান তিনি।

সঞ্জয় কুমারের বিয়ে হয় ২০০৭ সালে। তার দশ কন্যাসন্তানের অধিকাংশই এখনো বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।

বড় মেয়ে সরিনা বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি। সঞ্জয়ের ভাষায়, “ঈশ্বর যা দিয়েছেন, তা নিয়েই আমি সন্তুষ্ট।”

দশ কন্যার পর পুত্রসন্তানের জন্মের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

অনেকেই এটিকে পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। যদিও সঞ্জয় এসব মন্তব্যের সঙ্গে একমত নন।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে মেয়েরা সব ক্ষেত্রেই নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছে। সমাজের নানা পর্যায়ে তারা সফলভাবে ভূমিকা রাখছে।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাক্ষাৎকারে নিজের দশ মেয়ের নাম একসঙ্গে বলতে গিয়ে বারবার থেমে যাচ্ছেন সঞ্জয়। এই দৃশ্য অনেককে বিস্মিত করেছে।

উল্লেখ্য, হরিয়ানায় লিঙ্গ বৈষম্য দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্পর্শকাতর সামাজিক ইস্যু। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রগতির কথাও উঠে এসেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন