

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অস্ট্রেলিয়ায় একটি সুটকেসের ভেতরে মানুষের দেহের বিভিন্ন খণ্ডাংশ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই বড় ধরনের হত্যা মামলার তদন্ত শুরু করেছিল দেশটির পুলিশ। তবে ব্যাপক তল্লাশির পর পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়া বস্তুটি কোনো মানুষের মরদেহ নয়, বরং সেটি মানুষের আদলে তৈরি একটি ‘সেক্স ডল’।
দেশটির ওলেন নামের ছোট একটি গ্রামের কাছে মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় দুই ব্যক্তি সুটকেসটি দেখতে পান। পরবর্তীতে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়। এই ঘটনাকে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ড ধরে নিয়ে তদন্ত শুরু করে দেশটির গোয়েন্দা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের বিশেষ দল।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তের পর পুলিশ বলেছে, ফরেনসিক পরীক্ষায় সুটকেসে মানুষের কোনো অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়নি। বরং সেটি ছিল অবিকল মানুষের মতো দেখতে একটি সেক্স ডল।
দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ সুপার লিন্ডা ব্র্যাডবেরি সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে এগুলোকে মানুষের দেহের খণ্ডিত অংশ মনে করে ভুল করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, মানুষের মরদেহের সঙ্গে এর এতটাই অদ্ভুত মিল ছিল যে যেকোনো মানুষেরই ভুল হওয়া স্বাভাবিক। তবে অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, এগুলো মানুষের শরীরের অংশ নয়।
পুলিশ বলেছে, ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে সুটকেসে থাকা পুতুলের শরীরে মানুষের পোশাক ছিল। শুধু তাই নয়, মাথায় চুল এবং নাক ফোঁড়ানো ছিল।
এই ঘটনাকে আরও চাঞ্চল্যকর করে তুলেছিল পুতুলটির শরীরে থাকা কিছু দাগ। এক বিবৃতিতে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ বলেছে, পুতুলটির গায়ে এমন কিছু দাগ ও ক্ষতচিহ্ন ছিল যা দেখতে হুবহু আঘাতের কালশিটে বা ছিলে যাওয়ার মতো মনে হচ্ছিল।
পুলিশ সুপার বলেন, আমরা সুটকেসটি উদ্ধার করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ফরেনসিক বিভাগের কাছে নিয়ে যাই এবং পরীক্ষার পর এগুলো মানুষের মরদেহ নয় বলে নিশ্চিত হয়েছি। পুরো প্রক্রিয়ায় আমরা আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিয়ম অনুসরণ করেছি এবং এতে কোনো আক্ষেপের সুযোগ নেই।
পুলিশ বলছে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং মামলাটির এখানেই সমাপ্তি টানা হয়েছে।
সূত্র: এবিসি নিউজ।

