

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দলটির একাধিক সূত্রের দাবি, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বঙ্গভবনে গেলে বিএনপির মহাসচিবের পদটি শূন্য হবে। ফলে এখন দলের ভেতরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তার স্থলাভিষিক্ত হবেন কে?
বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) এ বিষয়ে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের অবস্থান চূড়ান্ত হওয়ার পাশাপাশি মহাসচিব পদে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
এই পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রিজভীর নাম কেন সামনে
দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং গণমাধ্যমে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন রুহুল কবির রিজভী। আন্দোলন-সংগ্রামে তার সক্রিয় উপস্থিতি এবং তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করছেন দলের অনেকে।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মহাসচিব দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত বা অক্ষম হলে জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের কোনো দায়িত্বশীল নেতা সাময়িকভাবে সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে রিজভীর নামই প্রথমে আসতে পারে বলে দলের কয়েকজন নেতা মনে করছেন।
তবে মহাসচিব পদ নিয়ে বিএনপির ভেতরে এখনো চূড়ান্ত ঐকমত্য তৈরি হয়নি। দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করেন, মহাসচিব কেবল সাংগঠনিক দায়িত্বের পদ নয়; এটি দলের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী অবস্থানও। তাই স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্যকে এই দায়িত্ব দিলে নীতিনির্ধারণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় আরও ভালো হতে পারে।
এই যুক্তিতে সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে।
নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া কী?
বিএনপির গঠনতন্ত্রে স্থায়ীভাবে ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ নামে কোনো পদ নেই। ফলে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে দল তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে সাময়িক দায়িত্ব দেবে, নাকি নতুন মহাসচিব নির্বাচনের উদ্যোগ নেবে—সেটি দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
স্থায়ীভাবে মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে জাতীয় কাউন্সিলের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কাউন্সিলের মাধ্যমেই মহাসচিব নির্বাচিত হন। তবে এর আগ পর্যন্ত সাংগঠনিক প্রয়োজন মেটাতে অন্তর্বর্তী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী অবশ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি এ ব্যাপারে এখনো কিছু জানেন না।
মহাসচিব পদ দ্রুত পূরণের প্রয়োজন
মহাসচিবের পদ দীর্ঘদিন খালি রাখার সুযোগ বিএনপির সামনে নেই। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং জাতীয় কাউন্সিলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। ফলে দলের সাংগঠনিক নেতৃত্বে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন নেতা-কর্মীরা।
রিজভীর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা এবং মাঠের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ তার পক্ষে ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে সালাহউদ্দিন আহমদের সমর্থকেরা তার স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

