

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিদেশে চিকিৎসা শেষে প্রায় ছয় মাস পর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেশে ফিরেছেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকার পরও দেশে ফিরেছেন এই প্রধানমন্ত্রী।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরমুখী সড়কে শত শত সমর্থক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেউবাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ওই সময় বিরোধীদল নেপালি কংগ্রেসের বর্ষীয়ান এই নেতা হাত নেড়ে হাসিমুখে কর্মীদের সাড়া দেন।
অর্থ পাচারের অভিযোগে গত এপ্রিলে দেউবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল নেপালের পুলিশ। জেন-জি আন্দোলনে ক্ষমতাসীন সরকারের পতন এবং নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ক্ষমতায় আসার পর আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি করা হয় দেউবাকে।
গত ফেব্রুয়ারিতে নেপাল ত্যাগ করা ৮০ বছর বয়সী দেউবা তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পাঁচবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর আগামীকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) থেকে শুরু হতে যাওয়া তার দলের তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে বলেছেন, দেউবার মামলা এবং তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে যেকোনও ধরনের সিদ্ধান্ত অর্থপাচার তদন্ত বিভাগের আওতায় রয়েছে।
কাফলে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় আমরা তাকে বিমানবন্দরে এবং তার শোভাযাত্রায় নিরাপত্তা দিচ্ছি।
দেশটির কর্তৃপক্ষ দেউবার স্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি করেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরের প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে তরুণদের কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বালেন্দ্র শাহ বিপুল জয় পাওয়ার এক মাস পর ওই পরোয়ানা জারি করা হয়।
ক্ষমতায় আসার পর থেকে শাহর প্রশাসন হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করেছে। ২০২৫ সালে তরুণদের বিক্ষোভ দমনে সহিংস উপায় অবলম্বরের দায়ে গত মার্চে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে অল্প সময়ের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তরুণদের নেতৃত্বাধীন ওই আন্দোলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জেরে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা হিমালয় কন্যা খ্যাত নেপালের দুর্নীতি এবং অর্থনৈতিক দুর্দশা নিয়ে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিল।
আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবন ও বিভিন্ন কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। যার ফলে শেষ পর্যন্ত সরকারের পতন ঘটে। যেসব ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে দেউবার বাড়িও ছিল। আর এই দম্পতির ওপর বিক্ষোভকারীদের হামলার ভিডিও ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে বেশ কিছু টাকার বান্ডিলও উদ্ধার করা হয়েছিল। বিক্ষোভ তদন্তকারী কমিশনের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে দেউবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোকে ভুয়া বলে দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, এটি একটি ষড়যন্ত্র। যদিও এর পেছনে কে আছে তা আমি জানি না। কমিশন দেউবার বাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি থেকে কথিত অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্তের সুপারিশ করেছে।
সূত্র: এএফপি

