

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নে খসড়া প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করেছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকেই এর আংশিক বাস্তবায়ন কার্যকর ধরা হবে এবং ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কত ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
গতকাল বুধবার (১২ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রস্তাবনাটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সচিবদের কমিটির এক সদস্য বলেন, তবে কত ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে, তা মন্ত্রিসভাই চূড়ান্ত করবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাও একই তথ্য জানিয়েছেন।
অর্থ বিভাগ ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নবম পে-স্কেল সম্পর্কে অবহিত করে। জ্যেষ্ঠ দুই সরকারি কর্মকর্তা জানান, ওই আলোচনার ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে প্রস্তাবনাটি তৈরি করা হয়েছে।
ব্রিফিং-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামোয় উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া বলেন, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ধাপে ধাপে না বাড়িয়ে একবারে ১০০ শতাংশ বাড়ানো উচিত। উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন প্রাথমিকভাবে না বাড়ালেও আমি কোনো সমস্যা দেখি না।
তিনি আরও বলেন, উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীরা বেতনের পাশাপাশি অনেক সুযোগ-সুবিধা পান। কিন্তু নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা চরম দুর্দশায় রয়েছেন। বিষয়টি সরকারের বিবেচনা করা উচিত।
এদিকে নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত করার পর্যায়ে বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র। এসব জটিলতা নিরসন এবং বিচার বিভাগের কর্মচারীদের পে-স্কেল চূড়ান্ত করতে ৬ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ে ওই কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কমিটি সুপারিশ জমা দেওয়ার পর চূড়ান্ত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
এদিকে ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রতিবছর নির্ধারিত হারে বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এর প্রেক্ষিতে নবম জাতীয় পে-স্কেলের দাবি জোরালো হয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে-কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়।
পরবর্তীকালে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল পে স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার

