

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সাড়ে চার বছর আগে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবার সবচেয়ে বড় ইউক্রেনীয় হামলার মুখে পড়েছে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো। অঞ্চলটিতে ২০০টি ড্রোন একসঙ্গে আঘাত হেনেছে, এর ফলে রাজধানীর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিওভ জানিয়েছেন, হামলায় অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়াজুড়ে ইউক্রেনের প্রায় এক হাজার ড্রোন এবং চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলে একটি তেল সংরক্ষণাগারেও হামলা হয়েছে, এতে নিহত হয়েছেন একজন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কো অঞ্চলে চালানো এই হামলাকে ‘দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ বলে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি মূলত রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার হামলাকে ইঙ্গিত করেছেন। জেলেনস্কি বলেন, ‘এই যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে, আর রাশিয়াকেই কূটনৈতিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তার দাবি, গত সপ্তাহে কিয়েভে রুশ হামলার জবাব হিসেবেই এই ব্যাপক ড্রোন অভিযান চালানো হয়েছে। ওই হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ চাই না এবং কখনও চাইনি, কিন্তু যদি ইউক্রেন জ্বলে, তাহলে তোমাদের মস্কোও জ্বলবে।’
হামলার ফলে দক্ষিণ-পূর্ব মস্কোর কাপোতনিয়া তেল শোধনাগারে আগুন লাগে। এক মাসে এটি তৃতীয় এবং এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো হামলার শিকার হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিস্ফোরণের শক্তিতে একটি বিশাল তেল ট্যাংকের ঢাকনা আকাশে উড়ে যেতে দেখা যায়।
এ ছাড়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ার পর একটি শপিং সেন্টারেও আগুন লাগে বলে খবর পাওয়া গেছে। হামলার পর কয়েকটি আবাসিক বহুতল ভবনের বাসিন্দাদেরও সরিয়ে নেয়া হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মস্কোর চারটি বিমানবন্দর। এর ফলে বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে ৫০০-র বেশি ফ্লাইট।
যদিও রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন হামলার পরের দৃশ্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বহু ভিডিওতে দিনের আলোয় ড্রোন উড়তে এবং মস্কোর উপকণ্ঠের শিল্পাঞ্চলে বিস্ফোরণ ঘটতে দেখা গেছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বর্তমানে কাজানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের সঙ্গে এক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। ফলে তিনি এ হামলা নিয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি। এদিকে ইউক্রেন দাবি করেছে, একই রাতে রাশিয়াও দেশটিতে ২০০-র বেশি ড্রোন এবং একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
