মঙ্গলবার
০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রবাসফেরত অসুস্থ জামালকে রাস্তার পা‌শে ফেলে গেল স্ত্রী-সন্তান

এনপিবিনিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের সখীপুরে রাতের আঁধারে রাস্তার পাশে অসুস্থ স্বামীকে ফেলে গেছে স্ত্রী ও সন্তানেরা। যে স্ত্রী-সন্তানের সুখের জন্য পরিবার ছেড়ে দীর্ঘ ১২ বছর প্রবাসে কাটিয়েছেন, সেই স্ত্রী-সন্তানেরাই তাকে রাস্তার পাশে ফেলে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাতে উপজেলার কালমেঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই ব্যক্তির নাম জামাল উদ্দিন (৪৯)। তিনি কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৫ বছর আগে তিনি নিজ গ্রাম ছেড়ে গাজীপুরের শ্রীপুরে বাঁশবাড়ি দক্ষিণ পাড়া ইয়ার উদ্দিন মোড় এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং সেখানে প্রায় ১২ বছর কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রবাসজীবনে উপার্জিত লাখ লাখ টাকা তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন। কয়েক বছর আগে কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় আট মাস আগে দেশে ফেরেন জামাল উদ্দিন। দেশে ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসা ও দেখভাল নিয়ে পরিবারে অবহেলার অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গতকাল গভীর রাতে জামাল উদ্দিনকে পৈতৃক ভিটার পাশের সড়কে ফেলে রেখে যান তার স্ত্রী রিনা আক্তার ও সন্তানরা। পরে রাতে বৃষ্টি শুরু হলে তিনি মানবেতর অবস্থায় পড়েন। পরবর্তীতে কালমেঘা গ্রামের উত্তর-পূর্ব পাড়ায় তার ভাতিজির বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর স্থানীয়রা এগিয়ে এসে জামাল উদ্দিনকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।

জামাল উদ্দিনের বড় ভাই সোহরাব আলী জানান, ‘ভাইকে আমি অনেক আগেই সাবধান করেছিলাম শ্বশুরবাড়িতে না যেতে, কিন্তু সে এলাকার কারও কথা শোনেনি। আজ শুনতে পেলাম, তার স্ত্রী অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে চলে গেছে।’

স্থানীয়রা অসুস্থ জামাল উদ্দিনের চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, আমার স্বামীকে কয়েক মাস আগে ডিভোর্স দিয়েছি। তার সঙ্গে এখন আমার কোনো সম্পর্ক নেই। রাতের বেলায় তিনি কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছালেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম জানান, ইতোমধ্যে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন