মঙ্গলবার
০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাবির সমকামিতাকাণ্ডে মুখ খুললেন অভিযুক্তরা, সামনে এলো নতুন তথ্য

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদুল্লাহ হলে হল সংসদের এজিএস ও শিবির নেতা ইব্রাহিম খলিলের কক্ষে তার দুই অতিথির বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগের ঘটনার নতুন মোড় এসেছে। এবার ওই দুই অতিথি দাবি করেছেন, তাদের হুমকি দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের একজন ফারহান ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, এজিএসের রুমমেট ইউসুফ আরেফিন রোমেল তাদের ভিডিও ধারণের কথা জানিয়ে অভিযোগ স্বীকার করতে বাধ্য করেন। একই সঙ্গে, ‘শয়তানের ফাঁদে পড়ে ভুল করেছেন’—এমন বক্তব্যও জোর করে বলতে চাপ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

ফারহান আরও জানান, তিনি গত চার থেকে পাঁচ মাস ধরে হৃদরোগজনিত সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় এসে এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রাতে ভাগনে ইব্রাহিম খলিলের কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ফারহান বলেন, ‘সকালে উঠে ইব্রাহিম খলিল আমাদের ক্যান্টিনে খাওয়ানো শেষে ক্লাসে চলে যান এবং বলেন, প্রয়োজনে রুমে যেতে। পরে আমরা আমাদের মতো ঘুরতে বের হয়ে গেছিলাম। সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার দিকে আমাদের কাছে অস্থির লাগতেছিল গরমে। তখন আমরা রুমে চলে যাই। জোহরের পরে আমরা ডাক্তারের কাছে চলে যাব।’

ফারহান আরও বলেন, ‘আমরা রুমে যাওয়ার পরে আরমান (ফারহানের বন্ধু) গরম লাগার কারণে গোসল করে আসে। গোসল করে আসার পরে সে খালি গায়ে ছিল। কোনো কিছু গায়ে দেয়নি। পরে ইন্টারনেট ব্রাউজ করছিল এবং ভালো কানেকশন পাচ্ছিল না বলে ও জানালার দিকের বেডে গিয়েছিল। আর আমি ইব্রাহিম খলিলের বেডে বসে ছিলাম। তো এ সময় সে আমাকেও গোসল করে আসতে বলে। আমি গোসলের প্রস্তুতি হিসেবে গেঞ্জি খুলে যাওযার সময় দেখি ১২টা মতো বাজে। তখন আমি আমার বন্ধুকে বললাম, তুই কী দেখতেছিস। সে বলল নাটক দেখতেছে। এ সময় আমি ওকে বললাম, ঠিক আছে তোর সাথে আমিও নাটক দেখি। কিছু সময় পরে গোসল করলেই হবে।’

ফারহান ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা তো দুজন খালি গায়ে ছিলাম। আমি গোসল করতে যাব। ও গোসল করে খালি গায়ে ছিল। জানালায় মোবাইল রেখে দুজন একসঙ্গে নাটক দেখতে ছিলাম। ওই সময় আমি তার গায়ের ওপর হাত দিয়ে ছিলাম।

ভিডিও ধারণের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কিন্তু দরজা আটকাইনি। ওই লোকটা ইউসুফ আরেফিন রোমেল আসা মাত্রই দরজা ধাক্কা দিছে। ধাক্কার পরই দরজা খুলে গেছে। তখন আমরা উঠে যাই। আমি ভয় পেয়ে যাই এই ভেবে, ওর বেডে শোয়ার কারণে কী বলে না কী। পরে আমি সঙ্গে সঙ্গে ওই বেড থেকে আমার মামার বেডে চলে আসি। উনি বলতেছে তোমরা কী করতেছ। আমরা কই ভাই আমরা তো নাটক দেখতেছি। আমরা অন্য কিছু করতেছি না। কয় সত্যি করে বলো তোমরা কী করতেছ। উনি আমাদের বলতেছে, আমার বেডটাটা নষ্ট করেছ। আমরা কইছি ভাই আমরা এমন কিছু করি নাই, আপনার বেডটা নষ্ট হবে। মানে উনি আমাদের যেভাবে জবরদস্তি করতেছিল আমরা ভয় পেয়ে গেছিলাম। আমরা যে ওনার বেডে শুইছি এজন্য আমরা মনে করেছি, এটারে আবার তিনি কী মনে করে। ওই মনে করে ঘাবড়ে গেছিলাম। লোকটা আমারে বলতেছে তোমরা কোথায় পড়ো? আমরা বলছি আমরা নোয়াখালী থেকে আসছি ডাক্তার দেখানোর জন্য, মাদ্রাসায় পড়ি। আমরা কইছি আমরা একসঙ্গে পড়াশোনা করি। আমরা ক্লাসমেট আরকি। তো রোমেল বলতেছে এসব সমকামিতা কয়দিন থেকে চলতেছে। আমরা কইছি ভাই আমাদের জীবনে এগুলো হয়নি। মাদ্রাসায় আমরা সবাই একসঙ্গে থাকি। এগুলা কীভাবে হবে? কোনো সময় হবে না।’

পরে উনি বলছে আমার ভাই কোথায়। আমরা বলেছি উনি ক্লাসে। পরে আমাদের বলে, একটা ভিডিও নিবে। কয় তোমরা বলবা যে ‘আমরা এগুলো কইরা ভুল করেছি- আমাদের মাফ করে দেন। আর এগুলো হবে না।’ ভিডিও করতেছিলেন কিনা জানি না। উনি বললেন, ‘আমি ভিডিও করতেছি না। শুধু জাস্ট তোমরা এটা বলবা আমাকে। আর কাউকে না।’ আমি তো ভয় পাইছি শুধু ওনার বেডে যাওয়ার কারণে। পরে আমাদের চলে যেতে বলা হয়।

উনি আমাদের বলছিল, মুসা (আ.) এর জামানায় লুত (আ.) কওমকে আল্লাহ ধ্বংস করেছিলেন। আমাদের এখানে কী হবে। আমাদের কি কিছু করবে না আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন। তা আমি বলছি, ভাই নবী করীম (সা.) শেষ উম্মতদের জন্য দোয়া করে গেছে। আমার উম্মতরা যদি কখনো এগুলো করে তাদের যেন এভাবে ধ্বংস না করা হয়। তো উনি আমাদের আবার এই কথা বলছিল যে সমকামী পুরুষ- পুরুষ ভালো না পুরুষ-মহিলা এগুলো করলে ভালো। তো আমরা তো সাধারণভাবে জানি পুরুষ-মহিলা এগুলো চলমান যেটা শরীয়তের মধ্যে আছে। আমি বলেছি, এটা ভালো। তো উনি বলতেছে আচ্ছা ঠিক আছে আমি কোনো ভিডিও করিনি। আর তোমার মামাকে কিছু বলা লাগবে না। তোমরা এখান থেকে চলে যাও। আমরা এর আগে পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে হল থেকে বেরিয়ে গেছিলাম। তো আমরা মনে করছি যে এটা সাধারণ বিষয় উনারা কিছু করবে না। আমার মামাকে বিষয়টা আর বলা হয়নি। আমি এটা সাধারণ মনে করছি তাই আমি মামাকে বলার প্রয়োজন মনে করি নাই আরকি। আমরা রুম থেকে চলে এসে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে ডাক্তার দেখাইছি। ডাক্তার দেখাই চলে আসছি।

আরেক অভিযুক্ত ফারহানের বন্ধু আরমান বলেন, মোবাইল আমার হাতে ছিল এবং আমরা ‘কাজল চোখের মেয়ে’ নাটক দেখছিলাম। উনি দরজা খুলেই বলে এই তোমরা এগুলো কি করতেছ। আমরা বলি আমরা তো কিছু করিনি। তারপর উনি বলে গেঞ্জি পরে বসো। পরে বলে কোরআনে এসবের কী শাস্তি আছে তোমরা কি জানো না। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ চলতে থাকে। আমরা বলেছি আমরা তো কিছু করিনি। একপর্যায়ে উনি আমাদেরকে দুই মিনিটের মধ্যে রুম থেকে চলে যেতে বলেন। পরে হঠাৎ এসে উনি বলেন যে আমি একটা ভিডিও করব। তোমরা বলবা যে ‘আমরা ভুল করেছি শয়তানের ধোঁকায় পড়ে, আমাদের ভুল হয়ে গেছে, মাফ করে দাও।’ ওই সময় উনি ভিডিও করতেছেন আমরা তো জানি না। আমরা বাধ্য হয়ে বলেছি, আমরা ভুল করেছি।

তিনি বলেন, ঘটনার সময় রোমেলের সঙ্গে কেউ ছিল না। তবে তার হাতে খাবার ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এজিএস ইব্রাহিম খলিলের রুমমেট ইউসুফ আরেফিন রোমেল নাস্তিকমনা এবং ইসলাম বিদ্বেষী। শিবির এবং শিবিরের রাজনীতিকেও তিনি ঘৃণা করেন। ভাইরাল ভিডিওটি সর্বপ্রথম ছাত্রলীগ নেতা অনয় চৌধুরী প্রকাশ করে। তাই রোমেল বর্তমানে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কিনা এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে।

এজিএসের রুমমেট ইউসুফ আরেফিন রোমেলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া কালবেলাকে বলেন, তদন্ত চলছে। অতিরিক্ত কথা বলার সুযোগ নেই। তদন্ত শেষে যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্তে আসা হবে।

এর আগে শনিবার (১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হলটির এজিএসের রুমে তারই আমন্ত্রণে আগত তো দুই অতিথির ক্ষমা চাওয়া অবস্থায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনরা দাবি করেন, তারা দুজন সমকামিতায় লিপ্ত ছিলেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন