

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নেপালের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানানোয় প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর অভিযোগ করেছেন।
গত মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) জেন-জির বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে পদত্যাগে বাধ্য হন কেপি শর্মা। গুঞ্জন ওঠে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তবে তিনি বর্তমানে নেপালে অবস্থান করছেন এবং সেনাবাহিনীর শিবপুরি ব্যারাকে থাকছেন।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) তিনি নিজ দলের মহাসচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি ভারতের ভূমিকা উল্লেখ করে নিজের প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর কারণ হিসেবে লিপুলেখ বিতর্ককে দায়ী করেছেন।
চিঠিতে তিনি বলেন, “যদি আমি লিপুলেখ অঞ্চল নিয়ে প্রশ্ন না তুলতাম এবং অযোধ্যা ও দেবতা রাম নিয়ে কথা না বলতাম, তাহলে হয়ত আমি ক্ষমতায় থাকতাম।
তিনি বলেন, আমি ক্ষমতা হারিয়েছি কারণ অযোধ্যায় দেবতা রামের জন্ম হয়েছে এই দাবির বিরোধিতা করেছিলাম।”
নেপাল ও ভারতের মধ্যে লিপুলেখ গিরিপথকে কেন্দ্র করে বিরোধ রয়েছে। বিতর্কের মূল কেন্দ্র কালাপানি অঞ্চল। ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নির্ধারিত হয়। কালী নদীর উৎপত্তিস্থলকে নির্ধারণ করে সীমান্ত চিহ্নিত করা হয়েছে।
নেপালের দাবি, কালী নদীর উৎপত্তি লিম্পিয়াধুড়া থেকে, যা লিপুলেখের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এ অনুযায়ী, কালাপানি ও লিপুলেখ উভয়ই নেপালের ভূখণ্ড। অন্যদিকে, ভারতের দাবি নদীটি কালাপানি গ্রামের কাছে শুরু হয়েছে। ফলে ভারত এই অঞ্চলকে উত্তরাখণ্ড রাজ্যের অংশ হিসেবে দাবি করে।
ওলির সরকার এ অঞ্চল নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, “মহাকালী নদীর পূর্ব দিকের লিম্পিয়াধুড়া, লিপুলেখ এবং কালাপানি নেপালের অবিচ্ছেদ্য অংশ।”
নেপাল এই ঘোষণার পর ভারতের কাছে ওই অঞ্চলে রাস্তা নির্মাণ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করার অনুরোধ জানায়। চীনের সাথেও যোগাযোগ করে বলে জানানো হয়, এটি নেপালের ভূখণ্ড। তবে ভারত নেপালের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিল, ১৯৫৪ সাল থেকে তারা লিপুলেখ দিয়ে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য করছে।
২০২০ সালের জুলাইয়ে কেপি শর্মা ওলি বলেছিলেন, দেবতা রাম ভারতে নয়, নেপালে জন্ম নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “রামের অযোধ্যা রাজ্য নেপালের পূর্ব বীরগঞ্জে অবস্থিত। ভারত একটি ভুয়া অযোধ্যা তৈরি করেছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, দেবতা রাম সীতাকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু ভারতে জন্ম নেওয়া রাম কীভাবে নেপালের জনকপুরের সীতাকে বিয়ে করেছিলেন। প্রাচীন সময়ে দূরের স্থানে বিয়ের প্রচলন ছিল না। “আমাদের মধ্যে ভুল ধারণা আছে সীতা ভারতের রামকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু রাম ভারতীয় নয়, নেপালি ছিলেন।”
ওলি বলেন, “রাম কীভাবে ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে নেপালের জনকপুরে সীতাকে বিয়ে করতে এসেছিলেন। প্রাচীন সময়ে যোগাযোগের সুযোগ ছিল না, ফোনও ছিল না। তখন আশপাশের রাজ্যগুলোর মধ্যে বিয়ে হতো, এত দূরে কেউ যেত না।”
এই ধরনের মন্তব্যের পর ভারতের পক্ষ থেকে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
