শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালের বিক্ষোভ রূপ নিলো সহিংসতায়, নেপথ্যে কী?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:২৪ পিএম
যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তাল নেপাল
expand
যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তাল নেপাল

নেপালে হঠাৎ শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। ফেসবুক, ইউটিউব ও এক্সসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও বিক্ষোভ দ্রুত সহিংস হয়ে ওঠে। হাজার হাজার মানুষ পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহত ও শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নেপালের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২৮ আগস্ট সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে সাত দিনের মধ্যে নিবন্ধন, অফিস স্থাপন ও একজন অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশ দেয়। সময়সীমা ছিল ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

কিন্তু ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্স, লিংকডইনসহ বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান নির্দেশ মানেনি। তাই ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬টি প্ল্যাটফর্মের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে সরকারের দুর্নীতি ও কর্তৃত্ববাদী আচরণের প্রতি তরুণদের ক্ষোভ এ আন্দোলনকে জোরদার করেছে। ‘হামি নেপাল’ নামে একটি সংগঠন অনুমতি নিয়ে সোমবার সমাবেশের আয়োজন করে। সামাজিক মাধ্যমে তারা বিক্ষোভের রুট, নির্দেশনা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়।

প্রথমে অনলাইন ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নামেন, পরে তা রূপ নেয় বৃহত্তর দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে। বর্তমানে নেপালে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারী এবং ৩৬ লাখ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী রয়েছে, যাদের বড় অংশ ব্যবসা ও যোগাযোগে এই প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল।

২৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইউজান রাজভাণ্ডারি এএফপিকে বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ হওয়া আন্দোলনের সূচনা, তবে মূলত আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ছি।”

আরেক শিক্ষার্থী ইক্ষামা তুমরোক জানান, “আমরা সরকারের কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। পরিবর্তন দেখতে চাই। এই প্রজন্মের সময়েই এর অবসান ঘটাতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি বলেছেন, নিবন্ধন ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চালু রাখতে দেওয়া হবে না। তিনি মন্তব্য করেন, “জাতিকে দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টা সহ্য করা হবে না।”

ক্ষমতাসীন দলও একই অবস্থান নিয়ে জানায়, তারা সবসময় অসঙ্গতি ও ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা ছিল কেবল শেষ ধাক্কা। প্রকৃতপক্ষে তরুণ প্রজন্ম দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, বৈষম্য ও অর্থনৈতিক সংকটে ক্ষুব্ধ। এ সিদ্ধান্ত তাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন