

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি। অথচ ঐতিহাসিক এই চুক্তির মূল স্বাক্ষরিত দলিলটি নেপাল সরকারের হেফাজতে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারছে না দেশটির সরকার।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল প্রতিনিধি সভায় দেওয়া বক্তব্যে জানিয়েছেন, জাতীয় আর্কাইভসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ করা হলেও চুক্তিটির মূল সনদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পার্লামেন্টে তিনি বলেন, সরকারের কাছে চুক্তিটির মূল কপি সংরক্ষিত আছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই। জাতীয় আর্কাইভে ঐতিহাসিক বিভিন্ন চুক্তির নথি থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও সেগুলোর মধ্যে কোনটি সুগৌলি চুক্তির মূল স্বাক্ষরিত দলিল, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে ২০১৯ সালে নেপালের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গাওয়ালী জানিয়েছিলেন, সুগৌলি চুক্তির কপি নেপালে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে এবার মূল দলিলের অবস্থান নিয়ে সরকারের অনিশ্চয়তার বিষয়টি সামনে এল।
১৮১৪ থেকে ১৮১৬ সাল পর্যন্ত চলা অ্যাংলো-নেপাল যুদ্ধের অবসানের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও নেপালের মধ্যে সুগৌলি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্যারিস ব্র্যাডশ এবং নেপালের রাজা গিরবাণ যুদ্ধ বিক্রম শাহের পক্ষে রাজগুরু গজরাজ মিশ্র স্বাক্ষর করেন।
চুক্তিটিকে নেপালের আধুনিক ভৌগোলিক সীমানার অন্যতম প্রধান আইনি ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভারতের স্বাধীনতার পর দুই দেশের সম্পর্ক পরিচালনায় নতুন চুক্তি ও নথি যুক্ত হলেও সীমান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে সুগৌলি চুক্তির গুরুত্ব এখনো রয়েছে।
বর্তমানে ভারত-নেপাল সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় ১৯৫০ সালের ভারত-নেপাল শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি এবং দুই দেশের যৌথ কারিগরি ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।
ভারত ও নেপালের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কালাপানি, লিম্পিয়াধুরা ও লিপুলেখ অঞ্চল। নেপালের দাবি, এসব এলাকা তাদের ভূখণ্ডের অংশ। ভারত অবশ্য অঞ্চলগুলোকে উত্তরাখন্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে।
২০১৯ সালে ভারত নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করার পর নেপাল আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানায়। কাঠমান্ডুর দাবি, বিতর্কিত এলাকাগুলো নেপালের সুদূরপশ্চিম প্রদেশের দারচুলা জেলার অন্তর্ভুক্ত।
এরপর ভারত ও চীনের মধ্যে লিপুলেখ পাস দিয়ে বাণিজ্যপথ চালুর বিষয়ে সমঝোতা হলে সীমান্ত বিরোধটি আবারও আলোচনায় আসে। নেপাল এ নিয়েও আপত্তি জানিয়ে আসছে।
সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ থাকলেও নেপাল কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান চায়। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিতর্কিত এলাকাগুলো নিয়ে দেশটির অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তির পক্ষে কাঠমান্ডু।
সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালও প্রতিবেশী দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্য, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সুবিধা এবং একে অপরের বৈধ স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় নেপাল।
সূত্র: এনডিটিভি


