

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর ছাড়ার পর একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন চার ভারতীয় নাবিক। হামলায় আরও একজন ভারতীয় নাবিক গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাটির জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে ইউক্রেন। তবে হামলার নিন্দা জানালেও সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেনি ভারত।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় ওডেসা বন্দর থেকে যাত্রা শুরুর পর এমভি গোল্ডেন লিও নামের জাহাজটি হামলার শিকার হয়। গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী এই জাহাজে সে সময় মোট ১৭ জন নাবিক ছিলেন, যাদের মধ্যে পাঁচজন ছিলেন ভারতীয়।
ঘটনার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনে থাকা ভারতীয় মিশন বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত নাবিকদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহত নাবিকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে।
ভারত এক বিবৃতিতে বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বেসামরিক নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করে—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়ার ছোড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশটির নৌবাহিনী জানিয়েছে, জাহাজটিতে ভুট্টা পরিবহন করা হচ্ছিল এবং এতে ভারত ও সিরিয়ার নাগরিকরা নাবিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ইউক্রেনের সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় কয়েকজন নাবিক ও একজন মেরিটাইম পাইলট নিহত হয়েছেন। জাহাজে থাকা ১৭ জন নাবিকের মধ্যে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
লন্ডনভিত্তিক শিপিং তথ্য সংস্থা এলএসইজি-এর তথ্য অনুযায়ী, এমভি গোল্ডেন লিও জাহাজটির মালিক মুম্বাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওশান গ্রেস শিপিং লিমিটেড।
ওডেসা অঞ্চলের ইউক্রেনীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি মাসে ওই এলাকায় রুশ হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রুশ হামলায়ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষের হামলার তীব্রতা বেড়েছে। এর ফলে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে বেসামরিক নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি