

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা হাজারও বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রী এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা শহরে আটকা পড়েছেন তারা।
শনিবার সকালে ইরানে হামলার পরপরই ইসরায়েল তাদের আকাশসীমা বেসামরিক উড়োজাহাজের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশও আকাশপথে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর প্রভাবে সৌদি আরবগামী ও সেখান থেকে ঢাকাগামী বেশ কিছু ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
মক্কা ও মদিনা থেকে আজ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বহু যাত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হোটেল ছেড়ে দিয়েছেন। পরে ফ্লাইট স্থগিতের খবর পেয়ে আবার হোটেলে ফিরলেও নতুন করে কক্ষ পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও সৌদি এয়ারলাইনসের যাত্রীরাও।
অনেক যাত্রী হোটেলের লবি, করিডর কিংবা খোলা জায়গায় অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। আবাসনের পাশাপাশি খাবার ও চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক চাহিদা নিয়েও দুর্ভোগ বাড়ছে। নগদ অর্থ ফুরিয়ে আসছে, আবার স্থানীয় মুদ্রা না থাকায় অনেকে আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
আটকে পড়া কয়েকজন যাত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ে হোটেল ছাড়ার পর এখন ফ্লাইট কবে হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাচ্ছেন না। এয়ারলাইনসের স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে যাত্রীদের ১৩৬৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করে সর্বশেষ ফ্লাইট পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামীকাল রবিবার দাম্মাম, জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, শারজাহ, আবুধাবি, কুয়েত ও দুবাইগামী ফ্লাইটের যাত্রীদের এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া বিমানবন্দরে না আসার অনুরোধ করা হচ্ছে।
সংটকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আটকা পড়া যাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর কোনো উদ্যোগ এখনো চোখে পড়েনি। স্থানীয় হোটেল মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, জরুরি ভিসা বাড়ানো এবং খাবারের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে দূতাবাসের তাৎক্ষণিক ভূমিকা রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত যাত্রী নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কবে থামবে, আকাশসীমা কবে খুলবে—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এর মধ্যে সৌদি আরবেও যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন
