

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে এলে মুসলমানদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—কতটুকু সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হয়? ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে।
ইসলামে কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া শর্ত। এই সম্পদের পরিমাণকে বলা হয় ‘নিসাব’। সাধারণভাবে, যাকাতের নিসাবের সঙ্গে এর মিল থাকলেও কোরবানির ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, যার কাছে ঈদুল আজহার দিনগুলোতে প্রয়োজনীয় খরচ বাদে অতিরিক্ত সাড়ে ৭ ভরি (প্রায় ৮৭.৪৮ গ্রাম) স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি (প্রায় ৬১২.৩৬ গ্রাম) রৌপ্য অথবা এর সমমূল্যের টাকা বা সম্পদ থাকে, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়।
তবে বসবাসের ঘর, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, ব্যবহারের পোশাক, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র—এসব কোরবানির নিসাব হিসাবের মধ্যে ধরা হয় না।
ধর্মীয় বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য সম্পদের ওপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়—যা যাকাতের ক্ষেত্রে প্রয়োজন। বরং ঈদের দিনগুলোতে যদি কেউ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তাহলেই তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।
স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার, নগদ অর্থ, যে জমি বার্ষিক খোরাকির জন্য প্রয়োজন হয় না এবং প্রয়োজন অতিরিক্ত আসবাবপত্র— এসবই কুরবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।
এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা-পয়সা, সোনা-রুপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে আসে না এমন জমি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র, পোশাক-পরিচ্ছেদ, আসবাবপত্র, তৈজসপত্রও ধর্তব্য হবে। সে সম্পদের ওপর এক বছর অতিক্রম হওয়া শর্ত নয়।
অনেকে মনে করেন, জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য যে ধরনের সম্পদ জরুরি যেমন, টাকা-পয়সা, সোনা-রুপা, ব্যবসায়িক সম্পদ, তেমনি কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্যও একই শর্ত। ফলে কোন কোন সচ্ছল পরিবারের লোকজনকেও কুরবানি দিতে দেখা যায় না। এটি ভুল ধারণা।
সঠিক মাসআলা হল, যে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির কাছে কুরবানির দিনগুলোতে সাড়ে ৫২ তোলা রুপার মূল্য পরিমাণ প্রয়োজনের অতিরিক্ত যেকোন ধরনের সম্পদ থাকবে তার উপরই কুরবানি ওয়াজিব। প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি, সৌখিন বা অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, তা ব্যবহৃত হোক বা না হোক, এসব কিছুও কুরবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।
কিন্তু জাকাতের বেলায় এগুলো ধর্তব্য হয় না। তাই টাকা-পয়সা, সোনা-চাঁদি ও ব্যবসায়িক সম্পদ না থাকলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধনসম্পদ, আসবাবপত্রের মূল্য নেসাব পরিমাণ হলেই কুরবানি ওয়াজিব হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৩১২; আলমগীরী ৫/২৯২
শুধু যিলহজ্বের ১০ তারিখে কুরবানির নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকলে কুরবানি ওয়াজিব হবে না বলে ধারণা করা হয়। ফলে যিলহজ্বের ১১ বা ১২ তারিখে কারো কাছে হঠাৎ কোনভাবে নেসাব পরিমাণ সম্পদ আসলে সে আর কুরবানি করে না। যেমন, যে অবিবাহিত মেয়ের উপর কুরবানি ওয়াজিব নয় কুরবানির পরদিন তথা যিলহজ্বের ১১ তারিখে তার বিয়ে হল, সেদিন স্বামী তাকে স্বর্ণ, টাকা-পয়সা ইত্যাদি দিলে, যা সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি। তখন সে এই ভেবে কুরবানি করে না যে, কুরবানির দিন তো অতিবাহিত হয়ে গেছে। এধারণা ভুল।
মাসআলা হল, যিলহজ্বের ১০ তারিখ সুবহে সাদিক থেকে ১২ তারিখ সূযার্স্ত পর্যন্ত মোট তিন দিন কুরবানি করা যায়। এ তিন দিনের মধ্যে যেকোন সময় কেউ নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাকেই কুরবানি দিতে হবে।
নসবুররায়া ৪/২১২-২১৩; বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৮; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮; আলমগীরী ৫/২৯৫
মন্তব্য করুন
