

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের ৩৯৫টি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এ. এন. এম. এহসানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, দেশের ৩৯৫টি উপজেলায় টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বমানের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজ সংসদে সরকারদলীয় এমপি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীনের এক প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী আমাকে ডেকে প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. এ. এন. এম. এহসানুল হক মিলন বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া এমপি সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষকদের বহুদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাবলী তুলে ধরেন।
“বর্তমান সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতি” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া শোনেন এবং বর্তমান সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতি ও গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কল্যাণ বোর্ড থেকে বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষকদের টাকা লুটপাট করা হয়েছে। ফলে অনেক শিক্ষক জীবনের শেষ বয়সে তাদের পাওনা টাকা না পেয়ে কষ্টের মধ্যে জীবন শেষ করেছেন। অনেকে টাকার অভাবে চিকিৎসা না করেই অসুস্থ অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের এমন মানবেতর জীবনযাপন থেকে মুক্তি দিতে ক্ষমতায় এসেই আমরা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠনের পদক্ষেপ নিয়েছি। সরকারি আমলাদের নেতিবাচক মনোভাব থাকা সত্ত্বেও কল্যাণ বোর্ডে শিক্ষক প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বিএনপি সরকার শিক্ষকবান্ধব সরকার। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের আমলে শিক্ষকদের সমস্যাবলী সমাধান ও সকল সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের পদোন্নতি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। আমরা আগামী ১৮ এপ্রিল শুক্রবার সকালে শিক্ষকদের পদোন্নতির পরীক্ষা গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলাম। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, অজ্ঞাত কারণে আজ সকালে এই পরীক্ষা হাইকোর্টে একটি রিটের মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো যুক্তিতে এমনটি করা হলো তা আমার বোধগম্য নয়—এর ফলে শিক্ষকরা আবার পিছিয়ে গেলেন।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৫ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে শূন্য রয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে এই নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সরকার অচিরেই এসব সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আগত শিক্ষক প্রতিনিধিগণ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের মহাসচিব জাকির হোসেন।
মন্তব্য করুন
