শুক্রবার
২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভয়ঙ্কর আফ্রিকান মাদক ‘খাট’, চালান ঢুকছে বাংলাদেশেও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

টুকরো টুকরো সবুজ পাতা। দেখতে অনেকটা গ্রিন টির মতো। তবে এটি কোনো চা-পাতা নয়, বরং এক ধরনের মাদক, যার নাম ‘খাট’ বা ‘মিরা’। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেখতে ভেষজ উদ্ভিদের মতো হলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব অন্যান্য মাদকের মতোই ভয়াবহ।

‘খাট’কে নিউ সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস (এনপিএস) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অনেকে একে ‘আরবের চা’ নামেও চেনেন। আন্তর্জাতিকভাবে এটি সি-ক্যাটাগরির মাদক হিসেবে পরিচিত।

মাদকসেবীরা সাধারণত খাটের পাতা সরাসরি চিবিয়ে খান। আবার পানিতে ফুটিয়ে চায়ের মতো করেও পান করেন। মূলত পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ায় এই উদ্ভিদ উৎপাদিত হয়। সেখান থেকে ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে এটি পাচার করা হয়।

২০১৮ সালে ঢাকায় এনপিএসের কয়েকটি চালান জব্দ হওয়ার পর বাংলাদেশেও ‘খাট’ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, তখন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় আড়াই হাজার কেজি খাট জব্দ করা হয়েছিল।

ইথিওপিয়া থেকে ‘গ্রিন টি’ পরিচয়ে দেশের ২০টি ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল এই মাদক। জব্দ করা চালানটির আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশকে এই মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে দেশের ভেতরে খাটের ভোক্তা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম শিকদার।

যেভাবে ক্ষতি করে

খাটে থাকা প্রাকৃতিক উদ্দীপক উপাদান সেবনকারীর শরীরে সাময়িক চাঙ্গাভাব তৈরি করে। এ কারণে অনেকের কাছে এটি চা বা কফির মতো নিরীহ মনে হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি বা অতিরিক্ত সেবনে এর গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হতে পারে।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পর্যন্ত ১১০টি দেশ খাটকে মাদক হিসেবে চিহ্নিত করে এর আমদানি নিষিদ্ধ করেছে।

একসময় যুক্তরাজ্যের শতাধিক ক্যাফেতে খাট প্রকাশ্যে বিক্রি হতো। এর প্রধান ক্রেতাদের মধ্যে ছিলেন সোমালি, ইয়েমেনি ও ইথিওপীয় নাগরিকরা। পরে এর ক্ষতিকর দিক বিবেচনায় ২০১৪ সালে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ খাটের আমদানি নিষিদ্ধ করে। তবে ইথিওপিয়া ও সোমালিয়াসহ কয়েকটি দেশে এখনো এর ব্যবহার রয়েছে।

খাটের সাতটি ক্ষতিকর প্রভাব

১. আত্মনিয়ন্ত্রণ কমে যায়: খাট সেবনের পর ব্যক্তি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন এবং অস্বাভাবিকভাবে বেশি ও অর্থহীন কথা বলতে পারেন।

২. বিভ্রান্তি ও একাকিত্ব: সেবনকারীর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি নির্লিপ্ত হয়ে পড়তে পারেন এবং নিজেকে একা মনে করতে পারেন।

৩. ঘুমের সমস্যা: খাট সেবনে ঘুমের স্বাভাবিকতা নষ্ট হতে পারে এবং অনিদ্রা দেখা দিতে পারে।

৪. উদ্বেগ ও আগ্রাসন: অতিরিক্ত সেবনে তীব্র মানসিক উদ্বেগ ও আগ্রাসী আচরণ দেখা দিতে পারে।

৫. দাঁতের ক্ষতি: দীর্ঘ সময় ধরে খাটের পাতা চিবানোর কারণে দাঁত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৬. মুখের ক্যানসারের ঝুঁকি: দীর্ঘদিন খাট চিবানোর সঙ্গে মুখে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

৭. যৌন সক্ষমতা কমে যেতে পারে: নিয়মিত খাট সেবনে যৌন সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফলে দেখতে সাধারণ সবুজ পাতার মতো হলেও খাটকে কোনোভাবেই নিরীহ ভেষজ বা চায়ের বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন