

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে মালিতে দুই সপ্তাহের জন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে দেশটির সামরিক সরকার।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) এক সরকারি ঘোষণায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মালির শিক্ষামন্ত্রী আমাদু সি সাভান।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জ্বালানির ঘাটতির ফলে শিক্ষক ও কর্মচারীদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়েছে, যার কারণে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বন্ধ থাকবে। মন্ত্রণালয় আশা করছে, ১০ নভেম্বরের পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা যাবে।
এদিকে দেশটির সংকট ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ সীমিত থাকবে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত। তবে জরুরি সেবা, উদ্ধার কার্যক্রম ও গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চালু রাখা হবে।
জ্বালানি সংকটের এই পরিস্থিতি শুরু হয় সেপ্টেম্বর মাসে, যখন আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠী জামায়াত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) প্রতিবেশী দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর অবরোধ আরোপ করে। তারা সেনেগাল ও আইভরি কোস্ট থেকে আসা জ্বালানি ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর হামলা চালায়, যার ফলে মালিতে জ্বালানি প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়।
জেএনআইএম জানায়, সরকারের পক্ষ থেকে গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সরকার বলছে, এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ছিল বিদ্রোহীদের কাছে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করা।
অবরোধের কারণে দেশের অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। পরিবহন খরচ ও বাজারমূল্য বেড়ে গেছে, আর পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি নিতে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজার-এই তিন দেশ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জঙ্গি হামলা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় ভুগছে। ২০২০ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মালির সেনাশাসন ফরাসি বাহিনীকে দেশ থেকে সরিয়ে দিয়ে রুশ ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনারের সহায়তা নেয়। তবে এতে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটেনি বলে বিশ্লেষকদের মত।
সূত্র: আল-জাজিরা
মন্তব্য করুন
