

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরানের অর্থনীতি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিপর্যস্ত অবস্থায় থাকা দেশের একটি প্রধান বেসরকারি ব্যাংক ‘আয়ান্দে ব্যাংক’-কে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যাংকটির সব সম্পদ এখন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মেল্লি ব্যাংকের অধীনে স্থানান্তরিত হয়েছে, সরকারিভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে গণমাধ্যম।
২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত আয়ান্দে ব্যাংকের দেশে মোট ২৭০টি শাখা ছিল, যার মধ্যে ১৫০টি শাখা তেহরানে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকটি বড় ধরনের লোকসান এবং ঋণের বোঝার কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, ব্যাংকটির মোট লোকসান প্রায় ৫২০ কোটি ডলার এবং ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৯০ কোটি ডলার।
শুক্রবার তেহরানে ব্যাংকের শাখাগুলোর বাইরে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা তোলার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।
মেল্লি ব্যাংকের পরিচালক আবুলফজল নাজারজে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানিয়েছেন, আয়ান্দে ব্যাংকের সম্পদ মেল্লি ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের আমানত নিরাপদ থাকবে এবং তারা তাদের টাকা তুলতে পারবেন।
ইরানের অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদে নিশ্চিত করেছেন, গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা হামিদরেজা ঘানিয়াবাদি জানিয়েছেন, আয়ান্দে ব্যাংকের বিপুল অনাদায়ী ঋণই দেউলিয়ার মূল কারণ।
তিনি বলেন, ব্যাংকের তহবিলের ৯০ শতাংশের বেশি অর্থ ব্যাংকের নিজস্ব প্রকল্প বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঋণে ব্যবহার হয়েছে, যা এখন পরিশোধ হয়নি।
আয়ান্দে ব্যাংক তেহরানের বিলাসবহুল ইরান মল শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণেও অর্থায়ন করেছিল, যেখানে রয়েছে সিনেমা হল, বরফের স্কেটিং রিংক এবং অন্যান্য বিনোদন সুবিধা।
তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানাচ্ছে, আয়ান্দে ব্যাংকের পাশাপাশি ইরানের আরও পাঁচটি ব্যাংক-সারমায়েহ, দেই, সেপাহ, ইরান জামিন ও মেলাল-আর্থিক সংকটে রয়েছে।
জাতিসংঘ গত সেপ্টেম্বরে ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে ‘স্ন্যাপব্যাক’ পদ্ধতিতে, যা ২০১৫ সালের পর প্রথমবারের মতো হয়েছে। ২০১৮ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছিলেন।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরাইল
মন্তব্য করুন
