শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব হওয়ার আলোচনায় যারা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৫৫ পিএম আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৫৭ পিএম
জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব নির্বাচনে আলোচনায় যারা
expand
জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব নির্বাচনে আলোচনায় যারা

জাতিসংঘে নেতৃত্বে আসছে বড় পরিবর্তন। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন সংস্থাটির নতুন মহাসচিব। তাই আগামী বছরই শুরু হচ্ছে বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।

বুধবার (২২ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, এ পদে ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রভাবশালী নারী ও পুরুষ প্রার্থিতা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

নির্বাচন প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে?

সাধারণত বর্তমান মহাসচিবের মেয়াদ শেষ হওয়ার কিছু মাস আগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (১৫ সদস্য) ও সাধারণ পরিষদ (১৯৩ সদস্য) যৌথভাবে প্রার্থিতা আহ্বান করে চিঠি পাঠায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে। এই চিঠি পাঠানো হবে আগামী বছরের শেষ দিকে।

জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে অন্তত একটি সদস্য রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন পেতে হয়। ঐতিহ্য অনুযায়ী, মহাসচিবের পদ অঞ্চলভিত্তিকভাবে পরিবর্তিত হয়। কূটনীতিকদের মতে, এবার লাতিন আমেরিকা অঞ্চল থেকে প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

মিশেল ব্যাচেলেট (চিলি)

চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটকে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বরিক আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

রেবেকা গ্রিনস্পান (কোস্টারিকা)

কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (UNCTAD) মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্পানও প্রার্থী হতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো চ্যাভেস।

রাফায়েল গ্রোসি (আর্জেন্টিনা)

বর্তমানে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি প্রকাশ্যে মহাসচিব নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা জানিয়েছেন। ২০১৯ সাল থেকে তিনি আইএইএর নেতৃত্বে আছেন এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অভিজ্ঞ হিসেবে পরিচিত।

নির্বাচন কীভাবে হবে

নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য গোপন ব্যালটে একাধিক দফায় ভোট দেবেন— যেটি স্ট্র পোল নামে পরিচিত। এতে প্রতিটি দেশ প্রার্থীর পক্ষে “সমর্থন”, “অসম্মতি” বা “মত নেই” ভোট দিতে পারে। একসময় ঐকমত্যে পৌঁছালে সেই নাম সাধারণ পরিষদের কাছে পাঠানো হয়।

পাঁচ স্থায়ী সদস্য— যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স— এখানে ভেটো ক্ষমতা রাখে। তাদের সম্মতি ছাড়া কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারেন না। সাধারণ পরিষদ পরে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের অনুমোদন দেয়, যা সাধারণত আনুষ্ঠানিকতার বিষয় মাত্র।

স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ

আগে এই প্রক্রিয়াটি অনেকটাই গোপন ছিল। তবে এখন জাতিসংঘ এটি আরও স্বচ্ছ করতে কাজ করছে। ২০২৫ সালের সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে নিজস্ব ভিশন স্টেটমেন্ট বা কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করতে হবে। এছাড়া, যাঁরা জাতিসংঘের অন্য কোনো পদে আছেন, তাঁদের নির্বাচনের সময় সেই দায়িত্ব থেকে বিরতি নিতে বলা হয়েছে, যেন স্বার্থের সংঘাত না হয়।

মহাসচিবের দায়িত্ব

জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, মহাসচিব হলেন সংস্থাটির প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। গুতেরেস বর্তমানে ৩০ হাজার বেসামরিক কর্মী ও প্রায় ৬০ হাজার শান্তিরক্ষী বাহিনী তত্ত্বাবধান করছেন। জাতিসংঘের বার্ষিক বাজেট ৩.৭ বিলিয়ন ডলার এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের বাজেট ৫.৬ বিলিয়ন ডলার।

তবে নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো সামরিক ব্যবস্থা বা নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারেন না মহাসচিব। তাই অনেকে মনে করেন, স্থায়ী সদস্যরা এমন প্রার্থী চান, যিনি "জেনারেল" নয়, বরং “সচিব” হিসেবেই বেশি কাজ করবেন।

এখনো কোনো নারী মহাসচিব নয়

জাতিসংঘের ৮০ বছরের ইতিহাসে এখনো কোনো নারী এই পদে নির্বাচিত হননি। সম্প্রতি সাধারণ পরিষদে গৃহীত এক প্রস্তাবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা নারী প্রার্থীদের অগ্রাধিকার বিবেচনায় নেয়।

সূত্র: রয়টার্স

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন