শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অতিরিক্ত ফল খেয়ে স্লিম হবার চেষ্টা, মারা গেলেন তরুণী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৪০ পিএম
অতিরিক্ত ফল খেয়ে স্লিম হবার চেষ্টা, মারা গেলেন তরুণী
expand
অতিরিক্ত ফল খেয়ে স্লিম হবার চেষ্টা, মারা গেলেন তরুণী

বালির একটি হোটেল কক্ষে নিঃশব্দে শেষ হয় তরুণী করোলিনা ক্রিজ্যাকের জীবন। বয়স মাত্র ২৭, তবু বছরের পর বছর চরম খাদ্যাভ্যাসে নিজের শরীরকে ক্ষীণ করে ফেলেছিলেন তিনি। ফলের ওপর নির্ভর এই কঠোর ডায়েটই শেষ পর্যন্ত তার প্রাণ কেড়ে নেয়।

আজকাল লাইট, হেলদি বা ‘ডিটক্স’ ট্রেন্ডের ধাক্কায় আমরা অনেকেই নানা ভাইরাল ও চরম খাদ্যাভ্যাসের দিকে ঝুঁকছি। কিন্তু এই হুজুগে ট্রেন্ড কখনও কখনও আমাদের শরীরের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বালির একটি হোটেল কক্ষে ২৭ বছর বয়সী করোলিনা ক্রিজ্যাকের এই মর্মান্তিক মৃত্যু সেই সতর্কবার্তার এক জোরালো উদাহরণ। মাত্র ২৭ কেজি ওজনের করোলিনার মৃত্যু বিশ্বজুড়ে চরম খাদ্যাভ্যাসের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

বালির এক শান্ত সমুদ্রতীরবর্তী হোটেল কক্ষে নিথর অবস্থায় পাওয়া যায় পোল্যান্ডের তরুণী করোলিনা ক্রিজ্যাকের (২৭) মরদেহ। কয়েক বছর ধরে শুধুমাত্র ফল খাওয়ার কঠোর ডায়েট অনুসরণ করছিলেন তিনি, যার ফলেই ঘটে তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু।‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদনে জানা যায়, করোলিনা ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বালির সুমবেরকিমা হিল রিসোর্টে উঠেছিলেন। আগেই তিনি একটি সুইমিং পুলসহ ভিলা চেয়েছিলেন। কিন্তু হোটেলে পৌঁছানোর পর কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাদের ভাষায়, “তিনি ছিলেন একেবারে হাড়জিরজিরে, চোখ গর্তের ভেতরে ঢুকে গেছে, গলার হাড় বেরিয়ে এসেছে।”

হোটেল কর্মীরা জানায়, করোলিনার অবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে এক রাতে তিনি নিজে হাঁটতে না পেরে এক কর্মীর সাহায্যে রুমে ফিরে যান। তার নখ হলুদ হয়ে গিয়েছিল, দাঁত পচে যাচ্ছিল, শরীরে দেখা দিচ্ছিল তীব্র পুষ্টিহীনতার লক্ষণ।কর্মীরা তাকে বারবার চিকিৎসা নিতে অনুরোধ করেন, কিন্তু করোলিনা প্রত্যেকবারই তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে,এই ডায়েট তার শরীরকে “শুদ্ধ ও সুস্থ” রাখছে।

তিন দিন পর এক স্থানীয় বন্ধুর কাছ থেকে করোলিনার কোনো খোঁজ না পেয়ে হোটেল কর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। দরজা খুলে দেখা যায়, তিনি বিছানায় নিথর হয়ে পড়ে আছেন। চিকিৎসক এসে জানান,অপুষ্টি ও অনাহারের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

মৃত্যুর সময় করোলিনার ওজন ছিল মাত্র ২২ কিলোগ্রাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অস্টিওপরোসিস (হাড়ের রোগ) ও অ্যালবুমিনের ঘাটতিতে ভুগছিলেন। মুলত এই দুটি রোগই দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টির ফল।

তার বন্ধুরা জানান, কৈশোর থেকেই করোলিনা নিজের শরীরের গঠন নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং একসময় অ্যানোরেক্সিয়ায় ভুগেছিলেন। পরে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার সময় তিনি যোগব্যায়াম ও ভেগান ডায়েটের প্রতি আগ্রহী হন। ধীরে ধীরে এই প্রবণতা তাকে ঠেলে দেয় ‘ফ্রুটারিয়ানিজম’-এর দিকে,যেখানে প্রায় পুরো খাদ্যতালিকাই থাকে শুধু কাঁচা ফল।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন