

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বজুড়ে রহস্যময় দ্বীপের গল্প কম নয়-ভারতের উত্তর সেন্টিনেল আইল্যান্ড, ব্রাজিলের স্নেক আইল্যান্ড কিংবা মেক্সিকোর পুতুল দ্বীপের মতো জায়গা নিয়ে নানা কিংবদন্তি ছড়িয়ে আছে। কিন্তু আফ্রিকার কেনিয়ায় রয়েছে এমন এক দ্বীপ, যেটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘না ফেরার দ্বীপ’ নামে-কারণ কথিত আছে, একবার সেখানে গেলে আর কেউ ফিরে আসে না।
ভিক্টোরিয়া হ্রদের মাঝখানে অবস্থিত দ্বীপটির আসল নাম এমফাঙ্গা আইল্যান্ড। বহু বছর ধরে এটি ঘিরে রয়েছে ভয়, রহস্য আর কৌতূহল।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, দ্বীপটিতে বাস করে অশুভ আত্মারা, যারা সেখানে প্রবেশকারীদের ধরে নিয়ে যায়। অনেকে আবার দাবি করেন, রাতের বেলা দ্বীপ দিক থেকে অদ্ভুত সব শব্দ ভেসে আসে।
লোককথা অনুযায়ী, বহু আগে এক উপজাতি এই দ্বীপে দেবতাদের রোষানলে পড়ে। দেবতাদের অপমান করার পর দ্বীপটি নাকি পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং সেখানকার বাসিন্দারা কেউ আর ফিরে আসেনি। তখন থেকেই দ্বীপটি অভিশপ্ত হিসেবে পরিচিত এবং পরবর্তীতে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে “না ফেরার দ্বীপ” নামে।
ভিক্টোরিয়া হ্রদের পূর্ব প্রান্তে রয়েছে আরেকটি ব্যস্ত দ্বীপ মিগিঙ্গো, যা আয়তনে একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও ছোট। তবুও এখানে প্রায় এক হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করে, ফলে এটি বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দ্বীপ হিসেবে পরিচিত। প্রতি দুই হাজার বর্গমিটারে এখানে গড়ে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ বসবাস করে।
মিগিঙ্গোর অধিকাংশ বাসিন্দাই পেশায় মৎস্যজীবী। কেউ কেউ নিজের নৌকায়, আবার অনেকেই অন্যের নৌকা ভাড়া নিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। ২০০৪ সালের পর থেকে এখানে স্থায়ী ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে, যা একসময় ছিল সম্পূর্ণ অস্থায়ী বসতি।
ভিক্টোরিয়া হ্রদটি আফ্রিকার তিন দেশ-কেনিয়া, তানজানিয়া ও উগান্ডা-জুড়ে বিস্তৃত। প্রায় ৩৫৯ কিলোমিটার লম্বা ও ৩৩৭ কিলোমিটার চওড়া এই হ্রদ পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির হ্রদ হিসেবে পরিচিত। হ্রদের জুড়ে ছড়িয়ে আছে তিন হাজারেরও বেশি ছোট-বড় দ্বীপ, যার বেশিরভাগই জনশূন্য। তবে কিছু দ্বীপে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট মৎস্যগ্রাম, যেখানে মানুষ প্রতিদিন মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। এখানকার জেলেদের প্রধান লক্ষ্য বিখ্যাত নাইল পার্চ, যা আফ্রিকার অন্যতম জনপ্রিয় মাছ হিসেবে পরিচিত।
মন্তব্য করুন
