

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাপানের টোয়োয়াকে নামের একটি শহরে মানুষকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাব ব্যবহারে সংযমী করতে অভিনব এক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ পরামর্শ দিয়েছে, দৈনন্দিন এসব ডিভাইসের ব্যবহার যেন দিনে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
তবে এটি কোনো কঠোর নিয়ম নয়; কেউ এই সময়সীমা অতিক্রম করলেও শাস্তির বিধান নেই। মূল উদ্দেশ্য, নাগরিকদের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের প্রতি সচেতনতা তৈরি করা।
শহরের মেয়র মাসাফুমি কোকি বলেন, মানুষ এখন সরাসরি কথা বলার অভ্যাস হারিয়ে ফেলছে। ট্রেনে, রাস্তায়, অফিসে-সবাই ফোনে ডুবে থাকে। আমি চাচ্ছিলাম মানুষ অন্তত ভাবুক, তারা কি সত্যিই ফোনে অতিরিক্ত সময় দিচ্ছে?
টোয়োয়াকে শহরের প্রায় ৬৮ হাজার বাসিন্দা এই পরামর্শের আওতায়। এতে বলা হয়েছে, দিনে দুই ঘণ্টার বেশি মোবাইল বা গ্যাজেট ব্যবহার না করতে, যদিও কাজ ও পড়াশোনার প্রয়োজনে সময়ের হিসাব এর বাইরে থাকবে।
উদ্যোগটি নিয়ে নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কেউ কেউ এটিকে সময়োপযোগী বলে প্রশংসা করেছেন, আবার অনেকে মনে করছেন এটি ব্যক্তিগত জীবনে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ।
একজন স্কুলছাত্র জানায়, এই পরামর্শ অনুসরণ করার পর সে আগের তুলনায় এখন ফোনে অনেক কম সময় কাটায়। তবে কিছু তরুণ বলছে, বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে গেলে সময়সীমা মানা কঠিন হয়ে যায়।
শহর প্রশাসনের মতে, এই পদক্ষেপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো নাগরিকদের পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা। ছোটদের রাত ৯টার পর এবং প্রাপ্তবয়স্কদের রাত ১০টার পর মোবাইল ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, জাপানে মানুষ সাধারণত অল্প ঘুমায়, আর এর বড় কারণ মোবাইল ও ইন্টারনেটে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা। তাই স্থানীয় প্রশাসন চায়, মানুষ যেন নিজেদের ঘুম, স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সম্পর্কের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দেয়।
সূত্র : জাপান টুডে
মন্তব্য করুন
