

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০২৫ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনজন বিজ্ঞানী। তারা হচ্ছেন জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়া, অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ড রবসন, এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওমর এম. ইয়াগি।
তারা যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন ধাতু–জৈব কাঠামো (Metal-Organic Frameworks বা MOFs) উদ্ভাবনের জন্য।
বাংলাদেশ সময় বুধবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে সুইডেনের স্টকহোমে এক সংবাদ সম্মেলনে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ বছরের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।
সুসুমু কিতাগাওয়ার জন্ম ১৯৫১ সালে জাপানের কিয়োটো শহরে। ১৯৭৯ সালে কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন তিনি। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন।
রিচার্ড রবসনের জন্ম ১৯৩৭ সালে যুক্তরাজ্যের গ্লাসবার্নে। ১৯৬২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন।
ওমর এম. ইয়াগির জন্ম ১৯৬৫ সালে জর্ডানের আম্মানে। ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তিনি।
রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস জানায়, এই তিন বিজ্ঞানী এমন এক নতুন ধরনের আণবিক স্থাপত্য তৈরি করেছেন, যার মধ্যে গ্যাস ও রাসায়নিক পদার্থ প্রবাহিত হতে পারে। এই কাঠামো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে—যেমন মরুভূমির বাতাস থেকে পানি আহরণ, কার্বন ডাই-অক্সাইড ধারণ, বিষাক্ত গ্যাস সংরক্ষণ কিংবা রাসায়নিক বিক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।
নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান হেইনার লিঙ্কে বলেন, ধাতু-জৈব কাঠামো অসীম সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। বিজ্ঞানীরা এখন নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের উপযোগী উপকরণ নিজেরাই নকশা করতে পারছেন।
তাদের এই সাফল্য ভবিষ্যতে মানবজাতির বড় কিছু সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে—যেমন পানির মধ্যে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক পিএফএএস আলাদা করা, পরিবেশে থাকা ওষুধের অবশেষ ভেঙে ফেলা কিংবা মরুভূমির বাতাস থেকে পানি আহরণ।
উল্লেখযোগ্য যে, আলফ্রেড নোবেল ছিলেন এক সুইডিশ উদ্ভাবক ও সমাজসেবক, যিনি ডিনামাইটের আবিষ্কারক হিসেবে পরিচিত।
তার উইল অনুযায়ী ১৮৯৫ সালে নোবেল পুরস্কারের ভিত্তি স্থাপিত হয়, এবং ১৯০১ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা প্রদান শুরু হয়।
প্রথমে পাঁচটি বিভাগে পুরস্কার দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (দ্য ব্যাংক অব সুইডেন) অর্থনীতির জন্য বিশেষভাবে পুরস্কার চালু করে। বর্তমানে অর্থনীতির পুরস্কারও অন্যান্য নোবেল পুরস্কারের মতো সমান মর্যাদাপূর্ণ বলে বিবেচিত হয় এবং অনেকেই একে ‘বিকল্প নোবেল পুরস্কার’ বলে উল্লেখ করেন।
আগামী ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে, স্টকহোম ও অসলোতে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
প্রতিটি পুরস্কারের সাথে থাকছে ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনারের অর্থমূল্য, একটি মানপত্র এবং একটি স্বর্ণপদক।
২০২৩ সালে ক্রোনারের মূল্যস্ফীতির কারণে পুরস্কারের পরিমাণ ১০ মিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ১১ মিলিয়ন ক্রোনার করা হয়।
মন্তব্য করুন
