

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সুইডিশ মানবাধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন।
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমাদের চোখের সামনে একটি গণহত্যা হচ্ছে—এটি লাইভস্ট্রিমড গণহত্যা।’
সোমবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০টায় গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে পৌঁছান থুনবার্গ। এথেন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে এবং অন্যান্য অধিকারকর্মীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান সমর্থকরা। সেই সময় অনেকের হাতে ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা।
ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, মূল গল্প হলো ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের কার্যক্রম।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আটক অবস্থায় কীভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা বলা সম্ভব, তবে আসল গল্প তা নয়। আমাদের চোখের সামনেই গণহত্যা চলছে। আজ কেউ অজুহাত দিতে পারবে না যে তারা জানত না। ভবিষ্যতেও কেউ বলতে পারবে না—‘আমরা জানতাম না’।’
থুনবার্গ অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ‘গণহত্যার উদ্দেশ্যে’ সহিংসতা চালাচ্ছে এবং পুরো জাতিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা গাজা থেকে চোখ ফিরিয়ে নিতে পারি না, না কঙ্গো, সুদান, আফগানিস্তান বা পৃথিবীর অন্য কোনো কষ্টভোগী এলাকা থেকে। যা আমরা করছি, তা ন্যূনতম।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ কীভাবে এত নিষ্ঠুর হতে পারে তা কখনও বুঝতে পারব না। লক্ষ লক্ষ মানুষকে বছরের পর বছর ধরে অনাহারে রাখা হচ্ছে, অবরোধ ও নিপীড়নের মধ্যে বন্দি রাখা হচ্ছে।’
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিওতে তিনি জানান, ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংহতির প্রতীক হিসেবে কাজ করছে।’ তিনি যোগ করেন, গাজার দিকে মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিয়ে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।
থুনবার্গ বলেন, ‘ইসরায়েল আমাদের আটক করেছে, এবং এটি সরাসরি বিভিন্ন সরকারের কর্মকাণ্ডের ফল। রাষ্ট্রগুলোর আইনি দায়িত্ব আছে গণহত্যায় সম্পৃক্ততা বন্ধ করার, যা জাতিসংঘ কমিশনার নিশ্চিত করেছেন। ইসরায়েল গণহত্যা থেকে দায়মুক্তি পেতে পারবে না।’
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের ৪০টিরও বেশি নৌযানের বহর গাজায় যাওয়ার সময় আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে গত বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ৪৭৯ জন অধিকারকর্মীকে আটক করে ইসরায়েল। আটকদের মধ্যে সোমবার ১৭১ জনকে ইসরায়েল ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর আগে তিন দিনে বিভিন্ন দেশের ১৭০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। আটকরা ইসরায়েলের বন্দিদশায় কীভাবে নির্যাতিত হয়েছেন, তা জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন
