রবিবার
১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতের মনিপুর রাজ্যের স্বাধীনতার ঘোষণা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৩ এএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ‘স্বাধীনতা ঘোষণা করলো ভারতের মণিপুর’। লন্ডনের একটি প্রেস কনফারেন্সে দুজন ব্যক্তি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর-এর স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে। পেছনের ব্যানারে স্পষ্ট লেখা—ভারত থেকে মণিপুর ঘোষণার ঘোষণা।

ভাইরাল পোস্টগুলোর ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, ভারতীয় ‘দখলদারিত্বের’বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে মণিপুর। কিছু পোস্টে এটিকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। বিষয়টি যাচাই করতে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে খোঁজ নেওয়া হলে সাম্প্রতিক সময়ে মণিপুরের স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো নির্ভরযোগ্য খবর পাওয়া যায়নি। চলমান জাতিগত উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ থাকলেও স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার বিষয়ে কোনো স্বীকৃত সূত্র তথ্য দেয়নি।

রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে জানা যায়, ভাইরাল ভিডিওটি নতুন নয়। এটি ২০১৯ সালের একটি ঘটনার ভিডিও। সে সময় লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে দুজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা নিজেদের ‘মণিপুর রাজ্য পরিষদ’-এর প্রতিনিধি দাবি করে প্রবাসী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। তারা দাবি করেন, তারা মণিপুরের মহারাজার পক্ষে কথা বলছেন। তবে তাদের ঘোষণার কোনো সরকারি বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছিল না।

ভিডিওর ভিজ্যুয়াল বিশ্লেষণেও মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ব্যানারে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে “29 October, London”—যা ২০১৯ সালের ওই সংবাদ সম্মেলনের তারিখ ও স্থানের সঙ্গে মিলে যায়। অথচ ভাইরাল পোস্টে ভিডিওটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন এটি সাম্প্রতিক ও আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রঘোষণা।

বর্তমান বাস্তবতা হলো, মণিপুর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত-এর একটি অঙ্গরাজ্য। কোনো স্বীকৃত আন্তর্জাতিক সংস্থা বা ভারত সরকার মণিপুরের স্বাধীনতার ঘোষণা নিশ্চিত করেনি।

‘স্বাধীনতা ঘোষণা করলো ভারতের মণিপুর’ শিরোনামে প্রচারিত তথ্যটি বিভ্রান্তিকর। এটি মূলত ২০১৯ সালের একটি বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার ভিডিও, যা নতুন প্রেক্ষাপটে ছড়িয়ে ভুল ধারণা তৈরি করা হচ্ছে। তাই সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এমন সংবাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও তথ্য যাচাই অত্যন্ত জরুরি।

সূত্র: ডিবিসি

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন