রবিবার
০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

চলতি আগস্ট থেকে আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। এতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়া তৈরি হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই বিশেষ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা গড়ের চেয়ে বেড়ে যেতে পারে, বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আটলান্টিক মহাসাগরের পৃষ্ঠে অস্বাভাবিক উষ্ণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

ডব্লিউএমওর তথ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এলাকাগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার তারতম্য ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। এটি শক্তিশালী এল নিনোরই স্পষ্ট ইঙ্গিত।

এই আগাম পূর্বাভাসের ফলে বিভিন্ন দেশের সরকার ও সাধারণ মানুষ সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার জন্য কিছুটা সময় পাবে বলে মনে করছে ডব্লিউএমও। আগাম পরিকল্পনা ও ঝুঁকি কমানোর পদক্ষেপ নিলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহ, ভয়াবহ দাবানল এবং মহাসাগরের রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রাই প্রমাণ করে যে এল নিনো আমাদের এই অতি-উষ্ণ গ্রহের পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে। এর ফলে বিশ্ব ভয়াবহ বন্যা ও খরার মুখে পড়তে পারে।

তিনি মনে করেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অব্যাহত নির্ভরতাই জলবায়ু সংকটকে ত্বরান্বিত করছে। কয়লা, তেল ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো ভবিষ্যতের ঝুঁকি আরও বাড়াবে বলে সতর্ক করেন তিনি। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মহাসচিব।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেছেন, এল নিনো বিশ্বের অন্যতম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জলবায়ুগত ঘটনা হলেও শুধু পূর্বাভাস দিয়ে দুর্যোগ ঠেকানো যায় না। বর্তমান এল নিনোর প্রভাব এমন সময়ে দেখা যাচ্ছে, যখন মহাসাগরের উষ্ণতা ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা নজিরবিহীনভাবে বাড়ছে। তাই আগাম প্রস্তুতির বিষয়টি এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য জলবায়ু তথ্যের ভিত্তিতে সরকার, মানবিক সংস্থা এবং কৃষি ও স্বাস্থ্য খাত চরম আবহাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে পারে। এতে মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের রক্ষা করা সহজ হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন